Wednesday, 21 August 2019 17:13

মৃত্য পথযাত্রী ৭৭ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে রাস্তায় ছুড়ে দিয়ে বাড়িঘর দখল!!

✍ নিজস্ব প্রতিবেদক

আঙ্গুরা বেগম চৌধুরী(৭৭)  ভাগ্য বঞ্চিত এক দুঃখীনি মায়ের নাম যার  নিজের বাড়ি ঘর থাকলেও যাযাবরের মত  অন্যের বাড়িতে জীবন কাটাতে হচ্ছে!  দুমোটো ভাতের আশায় , কন্যা দায়গ্রস্ত পিতা  বিয়ে দিয়েছিলেন পঞ্চাশোর্ধ  বিপত্নীক আব্দাল মিয়া চৌধুরীর সাথে , যার বড় মেয়ের  বিয়ে হয়ে গিয়েছিলো এবং ছোট ছেলের বয়সও  ছিলো দশ।আংগুরা বেগমের  এক মাত্র  সন্তান সাকেরা বেগম চৌধুরীর জন্মের পর আব্দাল মিয়াচৌধুরীও মারা যান। একদিন  তার সৎ ছেলে তাকে বাড়ি থেকে বেড় করে দেয়, ছেলের মৃত্যুর পর বাড়িতে ফিরে গেলেও সৎ মেয়ের স্বামী তাকে ধোঁকা দিয়ে বাড়িঘর দখল করে নিয়েছে !  

গরিব আত্মীয়-স্বজনের হক ধনীর  সম্পদে থাকলেও আঙ্গুরা বেগমের বেলায় তার   ধনি আত্মীয়-স্বজনরা তার সম্পদই উল্টো  কুক্ষিগত করে তাকে পথের মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন। 

  হবিগঞ্জ জেলারনবীগঞ্জ উপজেলার নং দীঘলবাক ইউনিয়নের,   নুরগাও  গ্রামের মৃত আব্দাল মিয়া চৌধুরীর ২য়  স্ত্রী আংগুরা বেগম। আব্দাল মিয়া চৌধুরীর মৃত্যুর পর আংগুরা  বেগম তার অবুঝ সন্তানদের নিয়ে  পুড়াদিয়া গ্রামে তার ভাসুরদের বাড়ির পাশে বাড়ি করে   চলে আসেন। 

  আব্দাল মিয়া চৌধুরীর ভাইয়েরা পুড়াদিয়া গ্রামে বসবাস করতেন, আব্দাল  মিয়া চৌধুরীর   সন্তানদের   যাতে কোন অসুবিধা নাহয় সে জন্য   গোষ্টির মুরব্বিদের তত্বাবধানে  পুড়াদিয়ার  ছমিরউদ্দিনের  বাড়ির সাথে আব্দাল মিয়া চৌধুরীর নুরগাওয়ের বাড়িটি বিনিময়  করে দেওয়া হয়। 

ছমির উদ্দীন বাড়িটি হিন্দু মালিকের কাছ থেকে কিনে ছিল  বলে  বাড়িটি  এনিমি প্রপার্টি হিসাবেসরকারের খাতায় লিপিবদ্ধ ছিল। এনিমি প্রপার্টি রেজিস্ট্রি করার বিধান না থাকায়   ছমির উদ্দীনের পুরাদিয়ার রাড়ির সাথে আব্দাল মিয়া চৌধুরীর নুরগাওয়ের  বাড়ি বিনিময়ের সময়   কোনদলিল  রেজিস্ট্রি না করে  সাদা স্টাম্পে আব্দাল মিয়ার  একমাত্র পুত্র ইসলাম উদ্দিনের নামেপুরাদিয়ার বাড়ীটি  লিখে দেয়া হয়। 

আব্দাল মিয়া চৌধুরীর ওয়ারিশানররা  নুরগাওয়ের বাড়িটি ছমির উদ্দিনের নামে  লিখে দেন। ছমির  উদ্দিন  এক সময়  এই বাড়ীটি  আব্দাল  মিয়া  চৌধুরীর আত্মীয় মোহাম্মদ চৌধুরীর কাছে বিক্রি করে দেন।

  নতুন বাড়ির  কাগজে ইসলাম উদ্দীন ছাড়া অন্যকারো নাম  না থাকায় কয়েক বছর পর ইসলাম উদ্দিন তার সৎ মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং  জহুরা বেগমও  এই  বাড়ির  কোন  অংশীদার নয় বলে দাবী করেন। এতে জহুরা  বেগমের সাথে ইসলাম উদ্দীনের বিবাদ  শুরু হয়ে যায় , জহুরা  বেগম তার সৎ বোন সাকেরার  বেগমকে  নিজের  বাড়িতে নিয়ে যান  

তাদের  মনোমালিন্য ঝগড়া বিবাদ  এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যেখানে  জহুরা বেগম ইসলামউদ্দিনের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে দেন।  সাকেরা বেগমের- জহুরা বেগম চৌধুরীর বাড়িতে থাকা খাওয়ার ব্যবস্তা হলেও আংগুরা বেগমের কোথাও  মাথাগুজার ঠাই না হওয়ায়   আত্মীয় স্বজনের  যাযাবরের মত  দিনাতিপাত করতে থাকেন। 

  ইসলাম উদ্দীনের মারা যাবার আগ পর্যন্ত  সৎ মাসৎ এমন কি আপন  বোন কারো সাথেকোন সম্পর্ক ছিলোনা।  এমনকি  জহুরা চৌধুরীর দেবর সাকেরা চৌধুরীকে বিয়ে করে ফেলায় জহুরা চৌধুরীর সাথে সাকেরা এবং তার সৎ  মায়ের  সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়!

চীরকুমার ইসলাম উদ্দীনের ম্রিত্যুর পর  আত্মিয় স্বজন আর মোরব্বিরা বাড়ি-ঘরকে মেরামত করে আংগুরা  বেগমকে  সেখানে বসবাসের ব্যবস্তা করে দেন। ৭০ বছরের বৃদ্ধা  আঙ্গুরা বেগম বাড়িতে একাই থাকতেন,  তার একমাত্র মেয়ের  বিয়ে হয়ে যাওয়ায় সে তার শ্বশুর বাড়িতে থাকে। আর  সৎ মেয়ে  জহুরা বেগম যুগ যুগ ধরে লন্ডনে  বসবাস করলেও  জীবনে কোন দিন তাদের খোজখবর নেননি।  

আংগুরা বেগমের জীর্ণ শীর্ণ ঘরটি যখন বসবাসের  অযোগ্য হয়ে পড়ায়  তখন   ৪নং দীঘলবাক  ইউনিয়নের প্রাক্তন  চেয়ারম্যান আবুসহিদ চৌধুরীর দেওয়া টিনআর পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয় সজনের   সাহায্য সহযোগিতায়   আংগুরা বেগম একটা আধা পাকা ঘর তৈরি করেন। 

বয়সের ভারে ন্যুজ আংগুরা বেগমের হাটা চলায় সমস্যা হলেও ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া রেশন আর পাড়া প্রতিবেশি  আত্মীয় সজনের  আর্থিক সাহায্য -সহযোগিতায় তার দিনকাল কোন মতে কেটে যাচ্ছিল যদিও ,  বাড়ির অদূরে পুকুর ঘাটে ওযু গোসল  করতে আর    ঘরের  পিছনে টয়লেট ব্যবহার করতে অনেকদূর কষ্ট করে যেতে হতো।

 বৃদ্ধা  আঙ্গুরা বেগমের (৭০শারীরিক দুর্বলতা আর  অসহায়ত্বের সুযোগে পুড়াদিয়া গ্রামের  এক রাজনৈতিক  প্রভাশালী পরিবার  তার সাথে সখ্যতা ঘরে তুলে।  তারা তাকে অফার দিল  তিনি যদি রাজি থাকেন তাহলে  তার সৎ  মেয়েকে বলেঘর পাকা করার ব্যবস্থা করে দেবেন। ঘরেরভিতরে বাথরুমটয়লেট আর টেপের পানির ব্যবস্থা থাকবে যাতে করে তাকে আর কষ্ট করে অজু-গোসলের জন্য বাইরে যেতে হবেনা। বিধবা আংগুরা বেগম তাদের মিষ্টি কথায় রাজি হয়ে যান  তারা তার আধপাকা  বাড়িটি ভেঙে সেখানে   সুন্দর একটি একতলা বাড়ি তৈরী করে।

বাড়িটি কমপ্লিট হওয়ার পর যখন আংগুরা বেগম ঘরে ঢুকতে চাইলেন তখন তারা তাকে ঘরে ঢুকতে দেয়নি , তাদের দাবী হলো, জহুরা চৌধুরীর স্বামী তুলা মিয়া চৌধুরী তাকে ঘরে ঢুকতে দিতে বারন করেছেন। তুলা মিয়া দাবী করেছেন তিনি নাকি বাড়িটি কিনে ফেলেছেন। 

আংগুরা বেগম নিজের ঘরে ঢুকতে না পেড়ে  গুষ্টির মোরব্বিএমনকি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারস্ত হলেন, কোন প্রতিকার পেলেননা। তিনি যাযাবরের মত নানান মানুষের বাড়িতে বসবাস করে যখন দেখলেন তিনি আর বাড়ি ফিরে পাবেন না তখন তিনি কেঁদে কেটে একদিন   গ্রামছেড়ে চলে গেলেন।  

   খবর নিয়ে জানা যায় তিনি এখন তার জন্ম স্তান নবীগঞ্জের চানপুর গ্রামে ( গুজা খাইর চানপুর ) ভাই শফিকমিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছেন। শফিক মিয়ারা গরিব মানুষ , তার  নিজেরই   সংসার  চলেনা।  তার  পক্ষে  আংগুরা বেগমের খাবার দাবার ঔষধ পথ্যের ব্যবস্তা করা সম্ভব হয়না বলে তাকে অনাহারে অর্ধাহারে বিনাচিকিৎসায়দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। 

পুড়াদিয়া গ্রামে থাকতে আঙ্গুরা বেগম নিয়মিত  ইউনিয়ন পরিষদের রেশন   পেতেন আর তার সাথে  ধনি আত্মীয় স্বজনের আর্থিক সাহায্য-সহযোগীতায় স্বাচ্ছন্দ্যে দিনাতিপাত করতে পারতেন। 

নিজ গ্রাম পুড়াদিয়া থেকে অনেক দূরে  ভিন্ন থানায়  বসবাস করেন বলে তিনি না পান ইউনিয়ন পরিষদের বেশনসেই সাথেবঞ্চিত হচ্ছেন আত্মীয় স্বজনের আর্থিক সাহায্য সহযোগীতা থেকেও। 

 অর্ধাহারে অনাহারে  রুগ শোকে ভোগা অসহায় আঙ্গুরা বেগম আজ  মৃত্যুর দোয়ারে দাঁড়িয়ে , তার মাথার উপর ঠাঁই নাই।তার একমাত্র চাওয়া তিনি যেন নিজের ভিটায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করতে পারেন।

 তিনি তার ভিটে বাড়ি ফিরে পেতে বাংলাদেশ সরকারের সাহায্য চান। তিনি  ব্যাপারে বাংলাদেশ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী , বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন , হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকনবীগঞ্জের ইউ.এন. , স্থানীয় প্রশাসন ওজনপ্রতিনিধিদের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

তোলা মিয়া চৌধুরীর বক্তব্য 

তোলা মিয়া চৌধুরী কেন আংগুরা বেগমকে বাড়িতে উটতে দিচ্ছেন না এই প্রশ্নকরা হলে  উত্তরে তোলা মিয়া চৌধুরী  বলেন  তিনি  এই বাড়ির মালিক। শ্বশুরের সম্পত্তিতে তিনি  একা  মালিক হলেন  কিভাবে ?, প্রশ্ন করায়  তিনি বলেন “বাড়িটি তিনি নিজের টাকায়  কিনেছেন।

   তথ্য নিয়ে জানা যায় ,/  বছর পুরবে বাড়িটির    এনিমি  প্রপার্টি ভাংগার জন্য তিনি কোর্টে  মামলা করে  এবং নিজের  নামে বাড়িটিনামজারি করে নিয়েছেন।     অথচ ১৯৯৭-৯৮ সালে যখন গ্রামে ভুমি জরীপ হয়েছিল  তখন বাড়িটি জহুরা বেগমসাকেরা বেগম  তাদের সৎ মা আংগুরাবেগমের নামে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। 

   এলাকাবাসির কাছ থেকে  খবর নিয়ে জানা যায়ইসলাম উদ্দিন চৌধুরী জিবিত থাকা কালে  তুলা মিয়া চৌধুরী  বাড়ীটির  মালিকানা দাবি করাতো  দুরের কথা  এক দিনের জন্য  এই বাড়িতে পা রাখেন নি। অথচ তিনি আজ নিজেকে পুরু বাড়ির খরিদা সুত্রে মালিক দাবী করতেছেন!!

Last modified on Thursday, 22 August 2019 01:53
Login to post comments
  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular
X

দুঃখিত !

ওয়েব সাইটে এই অপশন নাই।