আন্তর্জাতিক  সংবাদ

আন্তর্জাতিক সংবাদ (52)

 

কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড হত্যার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসের পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। গত বছর মিনিয়াপোলিসের রাস্তায় নির্মমভাবে গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যা করে চাওভিন। ওই সময় ‘আই ক্যান্ট ব্রিথ’ বলে আর্তচিৎকার করতে থাকেন ফ্লয়েড। কিন্তু নিষ্ঠুরতার চরম শিখরে পৌঁছে যায় চাওভিন ও তার সহযোগীরা। তাদের অত্যাচারে সেখানেই মারা যান ফ্লয়েড। এর প্রতিবাদে পুরো যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি লিখেছে, এক ভিডিওতে দেখা যায়, গত বছর মে মাসে ফ্লয়েডকে গ্রেফতারের সময় তার গলার উপর ৯ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে হাঁটু গেড়ে বসেছিলেন ৪৫ বছর বয়সী পুলিশ অফিসার ডেরেক চাওভিন।

বিবিসি লিখেছে, এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

এ ঘটনায় চাওভিনকে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়: সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার, থার্ড ডিগ্রি মার্ডার এবং নরহত্যা। শাস্তি ঘোষণা না করা পর্যন্ত তিনি পুলিশি হেফাজতে থাকবেন।

 
 সাজা হিসেবে কয়েক দশক জেল হতে পারে তার। এই রায়ে পৌঁছাতে ১২ সদস্যের বিচারকের প্যানেল পুরো একদিন সময় নেন। এর আগে তিন সপ্তাহ ধরে বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। রায় ঘোষণার পর উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আদালতের বাইরে জড়ো হওয়া কয়েক শত মানুষ রায়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
ফ্লয়েড পরিবারের আইনজীবী বেন ক্রাম্প বলেন, এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার মতো একটি ঘটনা। এক টুইটে তিনি বলেন, কষ্ট দিয়ে অর্জিত ন্যায়বিচার অবশেষে হাতে এলো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও যে জবাবদিহিতা থাকা দরকার সেটিই এই রায়ের মাধ্যমে পাওয়া গেলো। রায় ঘোষণার পর পরই ফ্লয়েড পরিবারকে টেলিফোন করেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস। প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে বলতে শোনা যায়, অবশেষে ন্যায়বিচার হলো। আমাদের আরো অনেক কিছু করতে হবে। পদ্ধতিগত বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এটি ছিল প্রথম পদক্ষেপ। টেলিভিশনে দেয়া জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বাইডেন বলেন, পদ্ধতিগত বর্ণবাদ পুরো জাতীয় আত্মার উপর একটি কলঙ্ক।
এরইমধ্যে মিস হ্যারিস আইনপ্রণেতাদের জর্জ ফ্লয়েড নামে একটি বিল পাসের নির্দেশ দিয়েছেন যা যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশিং ব্যবস্থায় সংস্কার আনবে। তিনি বলেন, এই বিল জর্জ ফ্লয়েডের লিগ্যাসির অংশ। এটি দীর্ঘদিন ধরে সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় ছিল।

বিবিসি আরো লিখেছে, মিনিয়াপোলিসের পুলিশ ফেডারেশন নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যারা পুলিশের প্রতিনিধিত্ব করে তারা জুরিদের তাদের ‘নিবেদিত কাজ সম্পন্ন করায়’ এবং ‘বিশাল একটি বোঝা’ বহনে সহায়তা করার জন্য ধন্যবাদ জানায়। ফেডারেশন বলে, আমরা ওই ক্ষডুগ্রস্ত সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে আমাদের দুঃখিত হওয়ার বিষয়টি জানাতে চাই, যা আমরা প্রতিনিয়ত অনুভব করেছি। এই মামলায় কেউই আসলে বিজয়ী নয়, সেই সাথে জুরিদের সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে।

মার্কিন মিডিয়াগুলো বলছে, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন চাওভিন। বিবিসির হোয়াইট হাউস বিষয়ক প্রতিবেদক তারা ম্যাককেলভি তার বিশ্লেষণে বলেন, রায় ঘোষণার দিন মানুষ চিৎকার করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল এবং গোলাপি রঙের জামা পরা ছোট একটি মেয়েশিশু খুশিতে ছোট মুঠি শক্ত করে ধরেছিল।
২১ বছর বয়সী কেনেথ নয়াচি বলেন, মিনিয়াপোলিসে আজ একটি শুভ দিন। এটা একটা আশীর্বাদ। অধিকারকর্মীরা বলছেন, ন্যায়বিচার সাধিত হয়েছে এবং তাদের কাঁধ থেকে একটি বোঝা নেমে গেছে।

তাদের এই তুষ্টি শহরের আরো অনেকেই ভাগ করে নেন যেখানে মানুষ গত কয়েক মাস ধরে এটি বয়ে বেড়াচ্ছিল। কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে পুলিশের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগের ক্ষেত্রে এই মামলা উল্লেখযোগ্য এবং এই রায় অতীতের প্রথাকে ভেঙ্গে ফেলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এর আগে খুব কম সংখ্যক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নরহত্যার অভিযোগ এসেছে এবং এদের মধ্যে আরো কম সংখ্যককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এই রায় ঘোষণার সাথে সাথেই জর্জ ফ্লয়েডের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা শেষ হয়ে যায় না।
Last modified on Thursday, 22 April 2021 01:09

ফ্রান্সে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছে। আল্পস পর্বতে বিধ্বস্ত হওয়া ওই হেলিকপ্টারে ছয়জন আরোহী ছিলেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় এই তথ্য জানান।

হেলিকপ্টারটি স্যাভো এলাকার বোনভিলার্ড শহরে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনো জানা যায়নি। অনেকে বলছেন, খারাপ আবহাওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারটি থেকে বের হতে সক্ষম হয়েছেন এর পাইলট। তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। ওই হেলিকপ্টারটি সার্ভিস এরিয়েন ফ্রেঞ্চ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের।

এই ঘটনায় শোক জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।

ইউরোকপ্টার ইসি১৩৫ উদ্ধারকারী সদস্যদের একটি প্রশিক্ষণে নিয়ে যাচ্ছিল। হেলিকপ্টারটিতে দুর্ঘটনার সময় দু’জন পাইলট ছিলেন। এদের মধ্যে একজন প্রশিক্ষণ নিতে যাচ্ছিলেন। বাকি চারজনের মধ্যে দু’জন উইঞ্চ অপারেটর এবং অন্য দু’জন পাহাড়ি এলাকার উদ্ধারকর্মী।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত তিনকর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন। এই তিন কর্মকর্তা নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে সার্জেন্ট হিসাবে পদোন্নতি পেয়েছেন। এই তিন বাংলাদেশী আমেরিকান হচ্ছেন আহমেদ আলী (৮৩ প্রিসেক্ট), সাইফুল ইসলাম (৭৮ প্রিসেক্ট) এবং তালেব হোসেন (৭১ প্রিসেক্ট)। জানা গেছে, নিউইয়র্ক পুলিশে যে সব বাংলাদেশী আমেরিকান কাজ করছেন তারা তাদের কাজের স্বাক্ষরতা রাখছেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের মুখ উজ্জ্বল করছেন।বাপার মিডিয়া লিয়াজন এবং ডিকেটটিভ জামিল সরোয়ার ঠিকানাকে জানান, এই তিনজন কর্মবর্তার পদোন্নতি অনুষ্ঠান গত ২৪ নভেম্বর সকালে ফ্লাশিং এর পুলিশ একাডেমিকে অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে প্রায় ৩ শতাধিক বাংলাদেশী আমেরিকান কর্মরত আছেন। এর মধ্যে তিন জন কারাম চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল্লাহ এবং পারুল আহমেদ ক্যাপ্টেন পদে কর্মরত রয়েছেন।

২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসার জন্য ভিসার আবেদন করেছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা। কিন্তু ভিসা আবেদনের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে ‘অসম্মান’ করে কথা বলার জন্য তখন ম্যারাডোনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হয়নি। ট্রাম্পকে ‘পুতুল’ বলায় ম্যারাডোনা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি বলেই জানিয়েছিলেন ম্যারাডোনার আইনজীবী ম্যাটিয়াস মরলা।যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে সাবেক স্ত্রীর মামলা মোকাবিলা করতে সেখানে যেতে চেয়েছিলেন ম্যারাডোনা।ভিসা আবেদনের সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনার কাছে একটি প্রশ্ন ছিল, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে আপনারা কী ধারণা?’ জবাবে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ট্রাম্পকে তিনি একজন ‘চিরোলিটা’ (পুতুল) মনে করেন। ‘চিরোলিটা’ আর্জেন্টিনার একটি আঞ্চলিক শব্দ। এটি তুচ্ছার্থে ব্যবহার হয়ে থাকে।এর আগে রাশিয়ান টিভি আরটির এক অনুষ্ঠানে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ট্রাম্পকে তাঁর কাছে কার্টুনের মতো মনে হয়। যখনই তিনি টেলিভিশনে ট্রাম্পকে দেখেন, তখনই তিনি চ্যানেল বদল করে ফেলেন।ম্যারাডোনা ছিলেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রকাশ্য সমালোচক। লাতিন আমেরিকার বাম আন্দোলনের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন তিনি। ভেনেজুয়েলার বিপ্লবী নেতা হুগো চাভেজের অনুসারী ছিলেন এই কিংবদন্তি।

গত রবিবার ১১ অক্টোবর ২০২০। ব্রিটেনের ইংল্যান্ড ও অয়েলস রাজ্যের সবচেয়ে উঁচু পর্বত স্নোডন এর চূড়ায় পায়ে হেঁটে পৌঁছান নবীগঞ্জ এর মোফাজ্জল চৌধুরী ইমরান।সাগর থেকে ১১০০ মিটার উচ্চতায় স্নোডনের চুড়ায় যেতে ইমরানের সময় লাগে ৩ ঘন্টা ৭ মিনিট। হেঁটে পর্বতের চুড়ায় উঠা ও পর্বত থেকে নেমে নিচে আসার রাস্তা ১৩ কিলোমিটার।


গ্লোবাল রিলিফ ট্রাস্ট চ্যারিটি সংস্থার আয়োজিত এই প্রোগ্রামে চ্যারিটির জন্য টাকা তোলতেই ইমরান এতে অংশ গ্রহণ করেন। গ্রুপের সবার মধ্যে ইমরান প্রথমেই পৌঁছান এবং প্রথমেই নিচে নামেন।ইমরান জানান, আগামী বছর স্কটল্যান্ড এর বেন নেভিস পর্বতের চুড়ায় হেঁঠে উঠার পরিকল্পনা করছেন। বেন নেভিসের উচ্চতা ১৩৪৫ মিটার। বেন নেভিস পুরো ব্রিটেনের সবচেয়ে উঁচু পর্বত।বাংলাদেশী বংশদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক মোফাজ্জল চৌধুরী ইমরান এর বাড়ি নবীগঞ্জ উপজেলার ৮নং সদর ইউনিয়নের ঘোণাপাড়া গ্রামে। ইমরান এর বাবা বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী।

পূর্ব লাদাখে উত্তেজনার মধ্যে পাঁচ ভারতীয় যুবককে চীনা সেনাবাহিনী তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভারতের অরুণাচল প্রদেশের কংগ্রেস সংসদ সদস্য নিনং এরিং।শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এক টুইট বার্তায় নিনং এরিং জানান, ভোরে রাজ্যের আপার সুবর্ণসিরি জেলার নাচো সার্কল এলাকা থেকে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সেনারা তুলে নিয়ে যায় ওই পাঁচ ভারতীয় যুবককে। তাঁরা ওই এলাকায় মাছ ধরতে গিয়েছিল।  অপহৃতরা সকলেই স্থানীয় তাজিন সম্প্রদায়ের।অরুণাচল পুলিশের ডিজি আর আর উপাধ্যায় জানিয়েছেন, শনিবার ভোরে নাচো সার্কলের সেরা-৭ এলাকার একটি জঙ্গল থেকে পাঁচ যুবককে অপহরণ করা হয়েছে। তবে অপহৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তাদের উদ্ধারে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহায্য চাওয়া হয়েছে।ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, ওই যুবকরা শনিবার ভোরে সেরা-৭ এলাকার জঙ্গলে মাছ শিকার করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাদের অপহরণ করা হয়েছে। অপহৃতরা হলেন- তনু বাকার, প্রশাত রিংলিং, নগরু দিরি, দোংতু এবিয়া ও তচ সিংকম।অরুণাচল প্রদেশের পুলিশ সূত্রে খবর, যেই স্থান থেকে পাঁচ যুবককে অপহরণ করা হয়েছে সেই সেরা-৭ এলাকা থেকে ভারত-চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা ১০০ কিলোমিটার দূরে।অপহৃতদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে তথ্য নেওয়ার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহায্য চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অরুণাচল প্রদেশের পুলিশ।

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে।

Last modified on Saturday, 05 September 2020 12:29

বান্ধবীকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণের পর এক ব্যক্তি হুমকি দিয়েছেন, মুখ খুললে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নগ্ন ছবি আপলোড করে দেবেন। নগ্ন ছবি ফাঁসের ভয় দেখিয়ে টানা চার বছর বিবাহিত নারীকে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করেছেন তিনি। এর মধ্যে ওই নারীর কাছ থেকে দুই লাখ ১০ হাজার টাকা আদায় করেছেন অভিযুক্ত যুবক। চার বছর এভাবে চলার পর ভারতের উত্তর কলকাতা শ্যামপুকুর থানায় ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ করেছেন ওই নারী।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক উত্তর কলকাতার চন্ডী ঘোষ রোডের বাসিন্দা। তার সঙ্গে ওই তরুণীর ছোটবেলা থেকেই বন্ধুত্ব। কয়েক বছর আগে তরুণীর বিয়ে হয়। চার বছর আগে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে গল্প করার জন্য ছোটবেলার বান্ধবীকে ডাকেন অভিযুক্ত। তরুণীর কোনো সন্দেহ হয়নি তার বন্ধুর ওপর০। কিন্তু তাকে ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করেন অভিযুক্ত। এরপর শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে ভিডিও ধারণ করে রাখেন। এরপর থেকে শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল। ওই অশ্লীল ছবি শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার ভয় দেখিয়ে বারবার তাকে ধর্ষণ করা হয়। 

তরুণীর অভিযোগ, তাকে অস্বাভাবিক যৌনকর্ম করতে বাধ্য করা হয়। এরপর দুই লাখ ১০ হাজার টাকা দিতেও বাধ্য করেন অভিযুক্ত যুবক। চার বছর ধরে লোকলজ্জার কারণে কাউকে কিছু বলতে পারেননি ওই নারী। সম্প্রতি তার মানসিক অবস্থা দেখে স্বামীর সন্দেহ হয়। স্ত্রীর মোবাইলে আসা কিছু মেসেজ ঘেঁটে দেখার পর সন্দেহ আরো বাড়ে। তিনি জিজ্ঞাসা করার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী। স্বামীকে পুরো বিষয়টি খুলে বলেন। 

এ ক্ষেত্রে স্বামী তার পাশে দাঁড়ান। বন্ধুর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী। পুলিশ তদন্ত করছে। অভিযুক্তর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ব্যাংকের সিন্দুক ভেঙে চুরি করতে এসেছিল এক দুষ্কৃতকারী। কিন্তু চুরি তো হলোই না, বরং নিজের প্রাণটাই খোয়াতে হলো। সিন্দুকের দরজা কাটতে যে অস্ত্র সে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল, সেটিই দুর্ঘটনাবশত তার গলা কেটে গেছে। আশ্চর্য করা এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের ভাদোদরায়।উজ্জীবন স্মল ফিনান্স ব্যাংক। এর সদর দপ্তর বেঙ্গালুরুতে। এই ব্যাংকেরই ভাদোদরার হার্নি রোড এলাকার শাখায় শনিবার মাঝরাতে লুট করতে আসে এক অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারী। একটি কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সের নীচ তলায় ব্যাংকটি রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রাত পৌনে একটা থেকে একটার মধ্যে একটি ইলেকট্রিক কাটারের সাহায্যে ব্যাংকের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে ওই দুষ্কৃতকারী। এরপর সেই ওই মেশিন দিয়ে সেফটি ভল্টটিরও দরজা কাটে। কিন্তু টাকাকড়ি লুট করার আগেই দুর্ঘটনাবশত সেই ইলেকট্রিক কাটারের স্যুইচ অন হয়ে যায় এবং সেটি দুষ্কৃতকারীর গলা কেটে দেয়।স্থানীয় ওয়ারাসিয়া থানার ইনস্পেক্টর এসএস আনন্দ জানিয়েছেন, 'সেফটি ভল্টের বাইরের জায়গাটি এতটাই ছোট যে সেখানে একজন মানুষই ঠিকমতো দাঁড়াতে পারে না। অন্ধকার থাকায় চোর ওই সংকীর্ণ জায়গায় নিজের গতিবিধিই ঠাওর করতে পারেনি। সে কাটার অন করার তারটি ভুল করে টেনে ফেলে ও সেটি তার গলা কেটে দেয়।'ব্যাংকের নজরদারী দল সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ব্যাংকের ভেতরে চোরের গতিবিধি বুঝতে পেরে ম্যানেজার প্রশান্ত শর্মাকে সতর্ক করে। ম্যানেজার তড়িঘড়ি ব্যাংকে গিয়ে যখন ঢোকেন, তখন দেখেন ভেতরে রক্তের বন্যা ভেসে যাচ্ছে। মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে সেই চোর। এরপর ওয়ারাসিয়া পুলিশকে খবর দেন তিনি। একটি কর্তব্যরত পেট্রোলিং ভ্যান সেখানে গিয়ে চোরটির মৃ্ত্যুর খবর নিশ্চিত করে। পুলিশ কর্মকর্তারা প্রাথমিক তদন্তের পর মনে করছেন, ওই চোর একাই গিয়েছিল চুরি করতে। তার সঙ্গে আর কেউ ছিল বল তাদের মনে হচ্ছে না।এসএস আনন্দের কথায়, 'আমরা চোরটির থেকে কয়েকটি নথি পেয়েছি। তবে সেটার মাধ্যমে এখনই শনাক্ত করা হচ্ছে না। আগে তার পরিবার এসে লোকটিকে চিহ্নিত করবে, তারপর তার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।' চোরটির মৃত্যুতে দুর্ঘটনাবশত মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। চুরির চেষ্টার অপরাধের কথায় লেখা রয়েছে অভিযোগ পত্রে।

Last modified on Tuesday, 11 August 2020 17:22

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের তেলকূপি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এক বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে মাতাল অবস্থায় ভারত থেকে অস্ত্রসহ এক বিএসএফ সদস্য বাংলাদেশে এসে ধরা পড়লেও তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।বিএসএফের গুলিত নিহত ব্যক্তি চাঁপাইনবাবগরে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের তেলকূপি লম্বাপাড়ার আইনাল হকের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৫০)।নিহতের পরিবার এবং স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকাল ৯টার দিকে সীমান্তের জমিতে ঘাষ কাটতে যান জাহাঙ্গীর। তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। এ সময় কাঁটাতারের কাছাকাছি গেলে তাকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফের সদস্যরা। পরে তাকে মারধরের পর হত্যা করে লাশ বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় ফেলে রেখে যায়। ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন জাহাঙ্গীরের ঘাষ কাটতে যাওয়ার কথার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বর্ডার থেকে তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে বিএসএফ। এখন তার লাশ বাড়িতে আছে।এ ঘটনায় ৫৯ বিজিবি’র রহনপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ঘটনা আমরা শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, সে কিভাবে নিহত হয়েছে।’এর আগে শুক্রবার মাতাল অবস্থায় অস্ত্রসহ ভারতীয় ৪৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আলিপুর ক্যাম্পের সদস্য আসাদ ভোলাহাটের চাঁনশিকারী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের পর তাকে বিএসএফের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

২১ জুন বিশ্বজুড়ে ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল- ‘Yoga at Home-Yoga with Family (বাড়িতে যোগব্যায়াম-পরিবারের সঙ্গে যোগব্যায়াম)। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে এবং জনসমাগমের নতুন নিয়ম অনুসারে আমাদের ঘরে উদযাপন করতে হয়েছে এই দিবসটি। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি গত ২১ জুন তাঁর বক্তব্যে আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস আমাদের সংহতির দিন। যোগাভ্যাস আমাদের একত্রিত করে, দূরত্বকে হ্রাস করে। আমাদের বাড়ির সীমানা থেকে যোগের মাধ্যমে আমরা নিজের সঙ্গে, পরিবারের সঙ্গে এবং সারা বিশ্বের মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে পারি এবং একটি অনন্য অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পারি।আজ যখন বিভিন্ন দেশ ও জনগণ কভিড ১৯-এর কারণে সৃষ্ট প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে, তখন আমরা আরও বেশি করে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব উপলব্ধি করছি। এর ফলে অনেকেই যোগ এবং আয়ুর্বেদের মতো প্রাচীন উপকারী অনুশীলনের দিকে ঝুঁকেছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, বিপাক ক্রিয়া জোরদার করা এবং শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা থেকে নিজেকে রক্ষা করা—এগুলো সবার জন্য মূল উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন যোগিক আসনগুলো সুপরিচিত। প্রাণায়ামের মতো শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশলগুলো শ্বসনতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। এই কৌশলগুলো এবং যোগাসনগুলোর নিয়মিত অনুশীলন রোগের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়তে সহায়তা করতে পারে। ভারসাম্য এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রা মূলত যোগের অন্যতম মূল ধারণা। এটি আধুনিক জীবনযাপনের চাপ থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। যোগব্যায়াম আমাদের জীবনের বিভিন্ন প্রতিকূলতাকে আত্নবিশ্বাসের সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য আমাদের মানসিক এবং শারীরিকভাবে স্থিতিশীল করে।যোগের এই উপকারিতাগুলোর স্বীকৃতি হিসেবে, জাতিসংঘ ২০১৪ সালে ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ঘোষণা করে। প্রতি বছর যোগের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বাংলাদেশ হাজার হাজার মানুষ দিবসটি উদযাপনের জন্য ভারতীয় হাই কমিশনের অনুষ্ঠানে শামিল হয়। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম নানা রঙের ম্যাট বিছিয়ে বর্ণিল হয়ে উঠে। গত বছর আমাদের এই উদযাপনে অংশ নিয়েছিলেন মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, মাননীয় রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন এবং মাননীয় নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিসহ ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ।                  এ বছরও, আমরা সারা বাংলাদেশজুড়ে যোগব্যায়ামের প্রতি মানুষের উত্সাহ দেখে অভিভূত হয়েছি। ভারত সরকারের আয়ুষ মন্ত্রণালয় ‘আমার জীবন আমার যোগ’ নামে একটি অনলাইন ভিডিও ব্লগিং প্রতিযোগিতা শুরু করে। প্রতিযোগিতার বাংলাদেশ সংস্করণ—‘আমার জীবন আমার যোগ-বাংলাদেশ’-এ আমরা অনেক প্রতিযোগী পেয়েছি যারা যোগব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার গভীর আগ্রহ পোষণ করেছে। ভারতীয় হাইকমিশন সাতদিনের একটি অনলাইন যোগ কর্মশালার পাশাপাশি বাংলাদেশের যোগভ্যাসকারীদের জন্য একজন প্রশিক্ষকের নেতৃত্বে প্রাণায়াম ও ধ্যান প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছিল।যে কোনো প্রতিকূলতায় ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমাদের সরকার এবং জনগণ কভিড-১৯  দ্বারা সৃষ্ট প্রতিকূলতার বিরূদ্ধে দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারত এবং বাংলাদেশ কভিড-১৯ মোকাবিলায় বিভিন্ন অনলাইন দক্ষতা বৃদ্ধির কোর্সের মাধ্যমে সর্বোত্তম অনুশীলনগুলো ভাগ করে নিচ্ছে। শুধুমাত্র এই সপ্তাহেই কভিড ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয়ে তিনটি কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। এই দক্ষতা বৃদ্ধির কোর্সগুলো আমাদের প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের একে অপরের কাছ থেকে শিখতে এবং কভিড-১৯  এর বিরূদ্ধে দৃঢ়ভাবে লড়তে সহায়তা করবে। নাগরিক হিসেবে আমাদের সম্মুখ যোদ্ধাদের সহায়তা করার সর্বোত্তম উপায় হলো নিজেকে সুরক্ষিত এবং সুস্থ রাখা।যোগব্যায়াম আমাদের একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার দিকে নিয়ে যায়। যে কেউ যোগাভ্যাস করতে পারেন। যোগাভ্যাসই পারে একটি স্বাস্থ্যকর পৃথিবী এবং ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের সন্ধানে মানবতাকে ঐক্যবদ্ধ করতে। মাননীয় তথ্যমন্ত্রী মো. হাছান মাহমুদ ৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, আমরা যোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যত্ নির্মাণ করতে পারি। প্রকৃতপক্ষে, কেবল আমাদের নিজের স্বাস্থ্যের উন্নতি নয়, বরং আমাদের প্রিয়জনদেরও খেয়াল রাখা এখন সময়ের দাবি। যোগব্যায়াম, সচেতন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মতো সহজ কাজগুলোর মাধ্যমে আমরা নিজেকে এবং আমাদের পরিবারকে রক্ষা করতে পারি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের প্রত্যেকের আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা সফল হব এবং বিজয় লাভ করব।

Last modified on Saturday, 04 July 2020 00:51
Page 1 of 4
  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular
X

দুঃখিত !

ওয়েব সাইটে এই অপশন নাই।