নবীগঞ্জের সংবাদ

নবীগঞ্জের সংবাদ (1390)

নবীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বড় ভাকৈর ইউনিয়নের হলিমপুর গ্রামে জমির রমজমার টাকা নিয়ে ছোট ভাইর হাতে বড় ভাইর খুনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার বিকেলে হলিমপুর তাদের নিজ বাড়িতে এই হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানাযায়,নবীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বড় ভাকৈর ইউনিয়নের হলিমপুর গ্রামের উমান প্রবাসী নিহত গৌরাঙ্গ দাস (৫৫) মৃত বিরীন্দ্র দাশের পুত্র। জমির রমজমার টাকা নিয়ে দুই ভাইয়ের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে  বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হয়। সোমবার এক পর্যায়ে ছোট ভাই গোপেন্দ দাস তার বড় ভাই গৌরাঙ্গ দাসের গলা টিপে ধরে শ্বাসরোধ করে দেয়ালে ধাক্কা দিয়ে পেলে দেয়। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় লোকজন গৌরাঙ্গ দাসকে উদ্ধার করে ইনাতগঞ্জ পল্লি ক্লিনিকে নিয়ে আসলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটির সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ টি উদ্ধার করে  নবীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসেন।ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করা হয়। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের করা হয়নি তবে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ডালিম আহমেদ জানান,লাশটি উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর ঘটনার মূল রহস্য জানা যাবে।

নবীগঞ্জে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ৩ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।বাকিদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।শনিবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের গুজাখাইর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।স্থানীয়রা জানান, কঠোর লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি অপেক্ষা করে শনিবার বিকেলে গুজাখাইর মাঠে লম্বাহাটি ও পশ্চিমহাটির যুবকদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল খেলা চলছিল।খেলার শেষ পর্যায়ে লম্বাহাটি দলের এক খেলোয়াড় মাঠ থেকে নেমে যান। নিয়ম অনুযায়ি ৫ মিনিট পর তিনি পুণরায় মাঠে নামার নিয়ম থাকলেও দুই মিনিট পরও তিনি মাঠে নামতে চান। এ নিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।এ পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেন। সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হন।আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় নূরুল ইসলামের ছেলে তাজুল ইসলাম (২০), কুদরত উল্ল্যার ছেলে সাদিকুর রহমান (১৭) ও নূর খাঁ’র ছেলে মুহিন খাঁ’কে (২৪) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ডালিম আহমেদ বলেন, ‘ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

সারাদেশের ন্যায় নবীগঞ্জে লকডাউনের প্রথম দিনে  উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে মাস্ক পরিধান না করায় এবং সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য বিধি অমান্য করার দায়ে ৬টি মামলা ও ৩ হাজার ৪শত টাকা জরিমানা প্রদান করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত । শুক্রবার (২৩জুলাই) সকালে নবীগঞ্জ উপজেলা পৌর এলাকায়,সহ কাজিরবাজার, ইনাতগঞ্জ বাজার, আউশকান্দি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয় । ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উত্তম কুমার দাশ।অভিযানে সহযোগীতা করেন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন শিয়াবুজ্জামান শিহাবসহ একদল সেনা। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে জরুরী পণ্যর দোকান পাঠ খোলার নির্দেশ দেয়া হয় । কিন্তু লোকজন স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে বেশি সংখ্যক লোকজন এক সাথে কেনাকাটা করতে আসেন । দোকান গুলোতে ভীড় জমান । এদের অনেকেরই নেই মাস্ক । লকডাউনের  শক্রবার সকালে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখার দায়ে ও স্বাস্থ্য বিধি অমান্যকারি ব্যক্তিকে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ , নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল আইন অনুযায়ী মোট ৩হাজার ৪শত টাকা জরিমানা করা হয় এবং ৬ টি মামলা দেয়া হয়েছে । তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি ) উত্তম কুমার দাশ জানান। এ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। অপর  দিকে লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নে থানা অফিসার ইনর্চাজ মোঃ ডালিম আহমদের নেতৃত্বে পুলিশও মাঠে রয়েছে।

নবীগঞ্জ থেকে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।এ ঘটনায় আনসারের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) জুয়েল মিয়া (৩২), মো. আব্দুল্লাহ (৩৪) ও কামাল মিয়াকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।মঙ্গলবার (২০ জুলাই) গভীর রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গোপাল বাজার টোল প্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব তাদের গ্রেপ্তার করে।এ ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেছে। র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯ এর একটি দল ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গোপাল বাজার টোল প্লাজা এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার ও গাঁজা বহনকাজে ব্যবহৃত কার জব্দসহ আনসারের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) জুয়েল মিয়া, মো. আব্দুল্লাহ ও কামাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জুয়েল মিয়া নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসারের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) বলে জানা গেছে।এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ডালিম আহমেদ বলেন, ‘র‌্যাব গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করেছে। এরমধ্যে একজন নবীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনাসার টিমের কমান্ডার বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে থানায় মামলা হয়েছে।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গুঙ্গিয়াজুড়ি হাওড়ে সাবেক এমপির মৎস্য ফিশারীতে জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের গুঙ্গিয়াজুড়ি হাওড়ে সাবেক এমপি মুনিম চৌধুরী বাবুর মালিকানাধীন ফিশারীর উপর অবস্থিত একটি ঘর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। জাহাঙ্গীর মিয়া উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের কুর্শি গ্রামের মতিন মিয়ার ছেলে। সে সাবেক এমপি মুনিম চৌধুরী বাবুর মালিকানাধীন ফিশারীর পাহাড়াদার হিসেবে কর্মরত ছিল।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয়  পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এম এ মুনিম চৌধুরীর বাবুর মালিকানাধীন মৎস্য ফিশারী উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের গুঙ্গিয়াজুড়ি হাওড়ে অবস্থিত।দীর্ঘদিন ধরে ওই ফিশারীর পাহাড়াদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন জাহাঙ্গীর মিয়া। পাহাড়াদার জাহাঙ্গীর ফিশারীর পাড়ে একটি ঘরে বসবাস করতো। মঙ্গলবার বিকেলে বসত ঘরের তীরের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় জাহাঙ্গীরের দেহ দেখেন পান স্থানীয় লোকজন। পরে খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ ডালিম আহমেদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবুল খায়ের।এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ডালিম আহমেদ বলেন, বসত ঘরের তীরের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় জাহাঙ্গীরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আপাতত কিছু বলা যাচ্ছেনা আমরা কাজ করছি, ছুরতহাল রিপোর্ট ও ময়না তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার রাজাবাদ গ্রামের বড় বাড়ীর কৃতি সন্তান যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা তাজুল ইসলাম নিঠুর ব্যাক্তিগত উদ্দ্যেগে প্রতি বছরের ন্যায় এইবার ও ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এলকার হত-দরিদ্র শতাধিক পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও  ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে পৌর এলাকার রাজাবাদ বড় বাড়ী প্রাঙ্গণে  এই ঈদ সামগ্রী  ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ মিলু,তাজুল ইসলাম নিঠুর ভাই এমদাদুল রহমান মন্টু, উপজেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম অপু,নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর মিয়া,মোস্তফা কামাল সবুজ সাংবাদিক হাসান চৌধুরী  প্রমুখ।

নবীগঞ্জে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নামাজ আদায়ে ধর্ম মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা মূলক চিঠি নিয়ে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের মসজিদে,মসজিদে বিতরণ করছেন এসআই বিকাশ দেব নাথ। সোমবার (১৯ জুলাই) নবীগঞ্জ থানার বিট নং ১৪-১,২,৩ নং ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই বিকাশ দেব নাথ এ কার্যক্রম শুরু করেন। এসময় নবীগঞ্জ পৌর এলাকার এই ৩টি ওয়ার্ডে বিভিন্ন মসজিদের সম্মানিত ইমাম, সভাপতি পদে দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তিদের হাতে ধর্ম মন্ত্রনালয় কর্তৃক স্বাস্থ্যবিধি নির্দেশনা মূলক চিঠি তাদের হাতে তুলে দেন। পরবর্তীতে বিট এলাকায় চুরি,ডাকাতিসহ অন্যান্য অপরাধ এবং ঈদের নামাজ বা অন্য কোন ইস্যুকে কেন্দ্র করে যেন কোন সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে তার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ বিভিন্ন পাড়া ও মহল্লার বিশিষ্টজনদের সাথে আলোচনা করেন এসআই বিকাশ দেব নাথ। এছাড়াও পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায় করার জন্য মুয়াসল্লিদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। ঈদের নামাজে ধর্ম মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা মূলক চিঠি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো, মসজিদে ঈদের নামাজ আয়োজনের ক্ষেত্রে কার্পেট বিচানো যাবে না। নামাজের পুর্বে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবানুনাশকদ্বারা জীবানু মুক্ত করতে হবে। মুসল্লিগণ প্রত্যেক নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। প্রত্যেক নিজ বাসা থেকে অজু করে মসজিদ বা ঈদগাহে আসতে হবে এবং অজু করার সময় কমপক্ষে ১০ সেকেন্ড সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদ ঈদগাহে অজুর স্থান সাবান পানি ও হেন্ডসেনিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদ ঈদগাহে মাঠে প্রবেশদ্বারে হেন্ড সেনিটাইজার হাত ধুয়ার ব্যবস্থাসহ সাবানও পানি রাখতে হবে। ঈদের নামাজের জামাতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পড়ে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ওটুপি ব্যবহার করা যাবে না। ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর,অন্তর কাতার করতে হবে। শিশু, বয়োবৃদ্ধ,অসুস্থ্য ব্যাক্তি এবং অসুস্থ্যদের সেবায় নিয়জিত ব্যাক্তিবর্গ নামাজের জামাতে অংশ্র গ্রহণে নিরুসাহিত করা হলো। সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরন করতে হবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিত করে ঈদের জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করতে হবে। করোনা মহামারি এবং বৈশ্বিক মহাবিপদ হতে রক্ষা পেতে বেশি বেশি তওবা,আস্তাগফিরুল্লাহ ও কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে এবং আমাদের কৃত অন্যায় অপরাধ এর জন্য ঈদের নামাজ শেষে মহান রাসূল আলামীনের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। খতিব ,ইমাম,মসজিদ ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি নির্দেশনা গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

নবীগঞ্জের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আব্দুস শহীদ ওরপে সাহিদ মিয়া (৬৫) আর নেই ইন্নালিল্লাহি --- রাজিউন। তিনি পৌর শহরের আনমনু গ্রামের মৃত আরমান উল্লার ছেলে এবং ডাঃ জোশেফ ও লন্ডন প্রবাসী পারভেজ এর পিতা। সোমবার রাত ১০ টার দিকে ঢাকাস্থ সিকেডি হসপিটালে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মরহুমের জানাজার নামাজ মঙ্গলবার বেলা ২.৩০ ঘটিকায় ওসমানী রোডস্থ দারুল উলুম মাদ্রাসা সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে অনুষ্টিত হইবে। মরহুম আঃ শহীদ সাহিদ মিয়া হবিগঞ্জ জেলাসহ বৃহত্তর সিলেটে সুপরিচিত ও দানশীল ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে খ্যাতি রয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে ভবন নির্মাণ সহ অসংখ্য অনুদান প্রদান করেছে। সাহিদ মিয়ার মৃত্যুর খবরে উপজেলার সবর্ত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। গভীর রাত পর্যন্ত মরহুমের বাসায় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক, সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক মানুষের ভীড় জমে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠে। 

রাত পোহালেই ঈদুল আজহা। আর মাত্র একদিন বাকি। এ সময় একদিকে যেমন জমে ওঠে পশুর হাট, তেমনিই ঝনঝন করে ওঠে কামারবাড়ি। পুরোদমে চলে ছুরি, চাকু ও চাপাতি বানানোর কাজ। কিন্তু এ বছর ক্রেতাশূন্য ছুরি-চাকুর দোকান, কাজের চাপ নেই কামারদের দোকানেও। নবীগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন সড়কে গড়ে উঠা দোকান গুলোতে বিক্রি হয় ছুরি, চাপাতি, কুড়াল, দা ও বঁটি। বছরের পুরোটা সময় সেখানে তেমন আলোড়ন না থাকলেও সাধারণত কোরবানির ঈদের আগে ক্রেতাদের চাপ দেখা যায়। দোকানি সুকুমার দেব বলেন, ‘করোনার আগে কোরবানির ঈদের সময় প্রতিদিন লাখ টাকার বিক্রি করেছি। এখন সারা দিনে ৫/১০ হাজার টাকার বিক্রিও নেই। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এবার কোরবানি কম হবে।’ এ বাজারের একাধিক বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোরবানির ঈদের এই মৌসুমে প্রতি দোকানে অন্তত ৫০/৬০ ক্রেতা আসতেন। সোমবার রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো দোকানে ৬ জন, কোনো দোকানে ১০ জন, কোনো দোকানে ১৪ জন ক্রেতা এসেছেন। নবীগঞ্জ উত্তর বাজারে রয়েছে কামারপট্টি। সেখানে পৌরসভার অনুমোদিত দোকান আছে প্রায় ১০টি। সারি বদ্ধভাবে রয়েছে কর্মকার মার্কেট। এছাড়া শহরের ওসমানী রোডে, মধ্য বাজারে রয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি কর্মকার দোকান। এই দোকানগুলোতে তৈরি হয় কোরবানির পশু কাটাকাটির সরঞ্জাম। সেখানে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানেই অলস সময় কাটাচ্ছেন কর্মকাররা। কারও হাতে নতুন কাজ নেই। কারণ, আগের পণ্যই বিক্রি হয়নি। মাঝে টুকটাক দু-একজন কাজ করছেন, তবে নতুন নয়, পুরোনো দা-বঁটি মেরামত করছেন তাঁরা। আগের মতো টুং টাং শব্দে মুখড়িত হয়না এই কর্মকার দোকান গুলোতে। ব্যবসায়ী সুরেন্দ্র দেব বলেন, ‘কোরবানির সময় সাধারণত যা বিক্রি হতো, তার মাত্র ২০ শতাংশ বিক্রি করতে পারছি। অথচ ঈদের আগের সোমবার আমরা ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও পেতাম না।’ গত রোজার ঈদের পর থেকেই কোরবানির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন কর্মকার ব্যবসায়ীরা। কোরবানি উপলক্ষে তারা এখন পর্যন্ত ১০/১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু ‘চালানের টাকা উঠবে কি না, তা নিয়েই চিন্তায় আছেন তারা, বললেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে মহামারি করোনায় লকডাউনে টিকমত ব্যবসা করতে পারেন নি তারা। তাদের প্রত্যেকের দোকানে কাজ করে ২ জন মূল কারিগর আর বাকিরা সহযোগী। নবীগঞ্জ বাজারের এই কর্মকার মার্কেটে প্রত্যেক কারিগর ও সহযোগিদের দৈনিক মজুরি ও খাওয়ার খরচও বহন করাই কষ্টসাধ্য ব্যবসায়ীদের।
কামারপট্টির আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ফরমাশ কম আসায় ব্যবসার তি বাড়ছে। দোকান বন্ধ রাখলে অন্তত কর্মচারীদের খরচ বহন করতে হয় না। নবীগঞ্জ বাজারের কর্মকার মার্কেটে অন্তত ৪০/৫০ কর্মকার কর্মরত। এপ্রিল মাসের কঠোর বিধিনিষেধের সময় থেকে ব্যবসায় চরম মান্দা। এখন তাদের পেটের ভাত জোগাড় করাই কঠিন। ‘গত বছর থেকে আয়-রোজগার বলতে গেলে নেই। ভেবেছিলাম, এ বছর কোরবানির পর অবস্থা কিছুটা ফিরবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, এখন পরিবার পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে জীবন যাপন করতে হবে। ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ উক্ত কামার শিল্পরা পাচ্ছেনা সরকারের কোন প্রনোদনা।

নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বাউসা গ্রামের শাহ্ বাড়ি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী, দানবীর আলহাজ্ব মোঃ ছালিক মিয়া শাহ এর উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বাউসা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ৭ শতাদিক গরিব অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝে নতুন শাড়ি কাপড়, লুঙ্গি ও থ্রীপিছ বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার সকালে শাহ্ বাড়ি প্রাঙ্গনে (শাহ্ বাড়ি ফাউন্ডেশনের) আয়োজনে গরীব অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের হাতে নতুন শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রীপিছ তুলে দেয়া হয়। বাউসা শাহ্ বাড়ি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য প্রবাসী আলহাজ্ব মোঃ ছালিক মিয়া শাহ্ এর সভাপতিত্বে ও ফাউন্ডেশনের সদস্য শাহ্ মিজান এবং শাহ্ লিমন আহমেদের যৌথ পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন, নবীগঞ্জ উপজেলার বিশিষ্ট সালিশ বিচারক মোঃ কাওছার আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান চৌধুরী সেপু, বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ ছাদিকুর রহমান শিশু, নাদামপুর গ্রামের বিশিষ্ট মুরুব্বি মাও. মোশাহিদ আলী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ। এতে উপস্থিত ছিলেন, শাহ্ বাড়ির বিশিষ্ট মুরুব্বী শাহ্ মছদ্দর আলী, বাউসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী আলহাজ্ব মোঃ তৈয়ব উল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ শাহ্ নজির আলী, শাহ্ তাজ উদ্দীন কুরেশী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য এস, এম, সেলিম আহমেদ, বাউসা যুব সংঘের উপদেষ্টা মোঃ বাছিতুর রহমান চৌধুরী, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য আলী হাছান লিটন, বাউসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সহসভাপতি মনসুর চৌধুরী। এতে মোনাজাত পরিচালনা করেন, বাউসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাও. শাহনূর আহমেদ আজাদী, মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন, বাউসা হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মোঃ আব্দুল লতিফ, বাউসা পুরাতন জামে মসজিদের খতিব মাও. রুহুল আমিন ও বাউসা বাজার পাঞ্জেগানা মসজিদের ইমাম মোঃ সাইফুর রহমান'সহ এলাকার বিশিষ্ট মুরুব্বীয়ান ও যুব সমাজের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, শাহ্ বাড়ির কৃতি সন্তান দানবীর আলহাজ্ব মোঃ ছালিক মিয়া শাহ্ যে কোন দুর্যোগ ও দুঃসময়ে মানুষের পাশে থেকে মানবতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসে কাজ করেন। উনার মতো সমাজ সেবক বিরল যিনি ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রতিবছর কয়েক লক্ষ টাকার খাদ্য সামগ্রী সহ দুটি ঈদে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে নতুন কাপড় দিয়ে আসছেন। সমাজের দানশীল ব্যক্তিদেরকে আমরা উৎসাহ উদ্দীপনা দিলে তারা মানবিক কাজে এগিয়ে আসবেন।

  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular