Sunday, 17 May 2020 08:51

নবীগঞ্জে প্রণোদনা (২৫০০ টাকা) এর তালিকা নিয়ে কালিয়ারভাঙ্গা ইউপিতে হঠ্রগোল \ চেয়ারম্যান’কে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

✍ মোঃ হাসান চৌধুরী নবীগঞ্জঃ

নবীগঞ্জ উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা ইউপির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন চেয়ারম্যান নিজেই।এর আগে ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রীর উপহার প্রণোদনার খসড়া তালিকায় শ্রমিকদের নাম নাই অজুহাত নিয়ে রিক্সা ও সিএনজি শ্রমিকের পক্ষ নিয়ে বিএনপি নেতা মির্জা , আওয়ামীলীগ নেতা ফরহাদ, শ্রমিক নেতা আরজু ও আকবর আলী মিলে কিছু উচ্ছৃংখল লোকদের সাথে নিয়ে চেয়ারম্যান অফিসে গিয়ে হট্রগোলের ঘটনা ঘটায়। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (১৬ মে) দুপুরে। ঘটনায় আহত ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, সারা দেশের ন্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের কারনে মানুষের খাদ্য সহায়তা কর্মসুচীসহ বিভিন্ন কর্মসুচী শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে ৯ম দফায় জিআর চাল, আলুসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের ন্যায় কালিয়ারভাঙ্গা ইউপিতে ৭৪৮ জনের নামে প্রধানমন্ত্রী উপহার প্রণোদনা ( নগদ অর্থ ২৫০০ টাকা ) বরাদ্ধ দেয়া হয়। ৯টি ওয়ার্ড মেম্বার নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ওই তালিকার প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসে জমা দেন। ওই তালিকা প্রেরনে খবর পেয়ে কালিযারভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ফরহাদ, তার ভাই ইউপি যুবদলের সেক্রেটারী মির্জা, শ্রমিক নেতা আরজু ও তাদের ঘনিষ্ট ইউপি মেম্বার আকবর আলী মিলে স্থানীয় রিক্সা ও সিএনজি শ্রমিকদের নামে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ২৫০০ টাকা করে বরাদ্ধ আসছে এমন তথ্য প্রচার করে তাদেরকে সংগঠিত করে। শুক্রবার বিকালে ওই লোকজন চেয়ারম্যান অফিসে গিয়ে প্রণোদনার তালিকা দেখতে চান। শনিবার সকালে দেখানোর কথা বলে তাদেরকে বিদায় দেন। শনিবার সকালে ইউপি অফিসে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম যাবার পর পরিকল্পিতভাবে উল্লেখিত লোকজনের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জনের একদল উচ্ছৃংখল লোক অফিসে প্রবেশ করে চেয়ারম্যানকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। এর কারন জানতে চাইলে তারা চেয়ারম্যানকে বলে শ্রমিকে নামে টাকা আসছে, তালিকায় শ্রমিকদের নাম নাই কেন। এ নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে লোকজন। এতে হট্রগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় স্থানীয় সমাজপতি হুমায়ুন কবির নামের এক ব্যক্তি তাদেরকে শান্ত থাকার অনুরুধ করলে উচ্ছৃংখল লোকজন তার উপর চড়াও হয়। এ সময় চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম তাদের দমন করার চেষ্টা কালে ডেকার দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। এক পর্যায়ে লোকজন চেয়ারম্যানকে ইউপি অফিসে অবরোদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় ইউনিয়নের সর্বত্র চরম উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান বাদী হয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।  এদিকে স্থানীয় একটি সুত্রে জানাযায়, এই ঘটনার মুল খল নায়ক হচ্ছেন ওই ইউনিয়নের সাবেকচেয়ারম্যান  ইমাদুল হক চৌধুরী । এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারের নিয়মানুসারে প্রণোদনার তালিকার প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করেছি। শুধুমাত্র শ্রমিকদের জন্য প্রণোদনার নগদ টাকা এসেছে তা আমার জানা নাই। হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। মির্জা হোসাইন জানান , প্রণোদনার তালিকায় শ্রমিকদের নাম না থাকার কারন জানতে গিয়ে অফিসে যাই এবং তালিকা দেখানোর জন্য অনুরুধ করি। এতে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হলে হট্রগোলের ঘটনা ঘটে। নবীগঞ্জ থানর অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজিজুর রহমান চেয়ারম্যান কর্তৃক দরখাস্ত দাখিলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Login to post comments
  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular