Tuesday, 20 July 2021 02:49

নবীগঞ্জের কামারবাড়ি ছুরি-চাকুর ব্যবসায় মন্দা

নিজস্ব প্রতিনিধি

দৈনিক নবীগঞ্জের ডাক 

রাত পোহালেই ঈদুল আজহা। আর মাত্র একদিন বাকি। এ সময় একদিকে যেমন জমে ওঠে পশুর হাট, তেমনিই ঝনঝন করে ওঠে কামারবাড়ি। পুরোদমে চলে ছুরি, চাকু ও চাপাতি বানানোর কাজ। কিন্তু এ বছর ক্রেতাশূন্য ছুরি-চাকুর দোকান, কাজের চাপ নেই কামারদের দোকানেও। নবীগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন সড়কে গড়ে উঠা দোকান গুলোতে বিক্রি হয় ছুরি, চাপাতি, কুড়াল, দা ও বঁটি। বছরের পুরোটা সময় সেখানে তেমন আলোড়ন না থাকলেও সাধারণত কোরবানির ঈদের আগে ক্রেতাদের চাপ দেখা যায়। দোকানি সুকুমার দেব বলেন, ‘করোনার আগে কোরবানির ঈদের সময় প্রতিদিন লাখ টাকার বিক্রি করেছি। এখন সারা দিনে ৫/১০ হাজার টাকার বিক্রিও নেই। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এবার কোরবানি কম হবে।’ এ বাজারের একাধিক বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোরবানির ঈদের এই মৌসুমে প্রতি দোকানে অন্তত ৫০/৬০ ক্রেতা আসতেন। সোমবার রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো দোকানে ৬ জন, কোনো দোকানে ১০ জন, কোনো দোকানে ১৪ জন ক্রেতা এসেছেন। নবীগঞ্জ উত্তর বাজারে রয়েছে কামারপট্টি। সেখানে পৌরসভার অনুমোদিত দোকান আছে প্রায় ১০টি। সারি বদ্ধভাবে রয়েছে কর্মকার মার্কেট। এছাড়া শহরের ওসমানী রোডে, মধ্য বাজারে রয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি কর্মকার দোকান। এই দোকানগুলোতে তৈরি হয় কোরবানির পশু কাটাকাটির সরঞ্জাম। সেখানে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানেই অলস সময় কাটাচ্ছেন কর্মকাররা। কারও হাতে নতুন কাজ নেই। কারণ, আগের পণ্যই বিক্রি হয়নি। মাঝে টুকটাক দু-একজন কাজ করছেন, তবে নতুন নয়, পুরোনো দা-বঁটি মেরামত করছেন তাঁরা। আগের মতো টুং টাং শব্দে মুখড়িত হয়না এই কর্মকার দোকান গুলোতে। ব্যবসায়ী সুরেন্দ্র দেব বলেন, ‘কোরবানির সময় সাধারণত যা বিক্রি হতো, তার মাত্র ২০ শতাংশ বিক্রি করতে পারছি। অথচ ঈদের আগের সোমবার আমরা ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও পেতাম না।’ গত রোজার ঈদের পর থেকেই কোরবানির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন কর্মকার ব্যবসায়ীরা। কোরবানি উপলক্ষে তারা এখন পর্যন্ত ১০/১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু ‘চালানের টাকা উঠবে কি না, তা নিয়েই চিন্তায় আছেন তারা, বললেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে মহামারি করোনায় লকডাউনে টিকমত ব্যবসা করতে পারেন নি তারা। তাদের প্রত্যেকের দোকানে কাজ করে ২ জন মূল কারিগর আর বাকিরা সহযোগী। নবীগঞ্জ বাজারের এই কর্মকার মার্কেটে প্রত্যেক কারিগর ও সহযোগিদের দৈনিক মজুরি ও খাওয়ার খরচও বহন করাই কষ্টসাধ্য ব্যবসায়ীদের।
কামারপট্টির আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ফরমাশ কম আসায় ব্যবসার তি বাড়ছে। দোকান বন্ধ রাখলে অন্তত কর্মচারীদের খরচ বহন করতে হয় না। নবীগঞ্জ বাজারের কর্মকার মার্কেটে অন্তত ৪০/৫০ কর্মকার কর্মরত। এপ্রিল মাসের কঠোর বিধিনিষেধের সময় থেকে ব্যবসায় চরম মান্দা। এখন তাদের পেটের ভাত জোগাড় করাই কঠিন। ‘গত বছর থেকে আয়-রোজগার বলতে গেলে নেই। ভেবেছিলাম, এ বছর কোরবানির পর অবস্থা কিছুটা ফিরবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, এখন পরিবার পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে জীবন যাপন করতে হবে। ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ উক্ত কামার শিল্পরা পাচ্ছেনা সরকারের কোন প্রনোদনা।

Login to post comments
  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular