Login to your account

Username *
Password *
Remember Me

Create an account

Fields marked with an asterisk (*) are required.
Name *
Username *
Password *
Verify password *
Email *
Verify email *
Captcha *
Reload Captcha
Monday, 17 June 2019 22:03

পদ্মলোচনের হস্তি দর্শন:" বাংলাদেশ যেখানে ভালো আমেরিকা অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে"

শামীম আহমদ চৌধুরী.

সম্পাদক : দৈনিক নবীগঞ্জের ডাক। 

This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.
দিন দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করে সরকার দলীয় ক্যাডারা ! দিন দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করে সরকার দলীয় ক্যাডারা ! ফাইল ফটো

 " আমার সন্তান হত্যার বিচার চাইনা"  দীপনের বাবা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক সাহেবের কান্না যে দিন সংবাদ পত্রে  পড়েছিলাম  ঠিক সেদিনই সংবাদ পত্রে আরেকটা খবর  পড়েছিলাম, গ্যালাপ জরিফের ফলাফলে" বাংলাদেশের আইন শৃখলা পরিস্তিতি আমেরিকা অষ্ট্রেলিয়ার চেয়ে উন্নত"।   ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিনাভোটে নির্বাচিত এম.পি.রা যেভাবে গলাফাটিয়ে বলে থাকেন " আমরা ৫ বছরের জন্য জনগনের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি " গ্যালাপ জরিফটাকেও আমার কাছে তেমনি এক সস্তা বিনোদন ছাড়া অন্য কিছু মনে হয়নি!

     বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ঢাকা এবং চিটাগাংয়ের বেশ কিছু সেন্টারে ১০০% ও তার উপরে  ভোট কাস্ট হতে দেখেছি ।( যদিও  কিছু সেন্টারে যেখানে ভোট দিতে আইডি লাগে  সেখানে  ৪% থেকে ৮% ভোট কাস্ট হয়েছে।) ঠিক গ্যালাপের   জরীপটায়ও ঢাকা আর  চিটাগাংয়ের নির্বাচনী সেন্টারের হাওয়া লেগেছে বলে আমার মনে হয়েছে।

   যে জরীপের ফলাফল   বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার মত  ন্যুনতম কোন ভিত্তি নাই,    তার দিকে এক মুহুরতের জন্য কর্নপাত করা
আমার কাছে অবান্তর   বলে  মনে হয়েছে,  কিন্তু জরীপের এই ফলাফল নিয়ে প্রথম আলোতে আনিসুল হক সাহেবের কলাম "অরন্যে রোদন:  বাংলাদেশ যেখানে ভালো আমেরিকা অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে" পড়ে আমি টাস্কি খেয়ে গেলাম।  যে মানুষটাকে  আমি বিশ্বমানের মানুষ   মনে করতাম, যার নখদর্পনে আমি মনে করতাম  ইউরুপ,  আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়ার  সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অবস্তা। মনে করতাম যে মানুষটার  লিখনী বাংগালীকে বিশ্বমানবতার সহিত পরিচিয় করিয়ে দেবে,  সেই মানুষটার  আমেরিকা- অষ্ট্রেলিয়ার আইন শৃঙ্খলার পরিস্তিতি  সম্পর্কে  জানাশোনা  এত কম দেখে অবাক হয়ে গেলাম। যে আনিসুল হক সাহেবকে  নতুন  প্রজন্মের কোটি কোটি  বাংগালীর বাতি ঘর বলে মনে করা হয়ে থাকে সেই বাতি ঘরের নিজেই যখন আলোক হারা -দিশে হারা তখন নতুন প্রজন্মের বাংগালীর  কপালে যে খারাপি আছে এটা নিশ্চিন্তে বলা যায়।

   আর যদি আনিসুল হক সাহেব   প্রথম আলো -ডেইলী ষ্টারেরে বিজ্ঞাপন আর জ্ঞাত- অজ্ঞাত সরকারী নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি লাভের আশায় জেনেশুনে এমন মিথ্যে  লিখে থাকেন তার জন্য আমি তাকে সাধুবাদ জানাই। নিজের জীবন বাঁচানো যেমন ফরজ তেমনি হাজার হাজার মানুষের জীবন-জিবীকার স্রোতধারা রক্ষা করা তারচেয়ে বড় ফরজ,  যুগের প্রেক্ষাপটে এটা বলা যায়। এই কর্তব্য কর্মটাই আনিসুল হক সাহেব পালন করেছেন, এমনটাই  আমরা বিশ্বাস করতে চাই।

      এই কলামের পাঠক পতিক্রিয়ায় দেখা যায়,  যারা আমেরিকা,  অষ্ট্রেলিয়া বা জাপানে থাকেন অথবা যারা দুনিয়া সম্পরকে সামান্য খোঁজ খবর রাখেন তারা  এই জরীপটাকে ভুয়া,  মিথ্যা আর হাস্যকরে বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

 * অষ্ট্রেলিয়া থেকে জনৈক পাঠক লিখেছেন"
"আমি খুশি যে বাংলাদেশ নিরাপদতর দেশ । কিন্তু আমি গত ১৩ বসরের অভিগগতায় দেখেচি অস্ট্রেলিয়া তে একজন মহিলা একা রাত ২ টার সময় বের হয়ে হাটলে বা কাজে গেলে সমসা হয় না । অস্ট্রেলিয়া তে অনেক সময় অনেকে বাসার দরজা ভুলে খুলা রেখে সারাদিন অফিস করে বাসায় ফেরে কে।ন চুরি দেখে নি। আমার নিজের গাড়ি আনলক অবসতায় বাসার সামনে সারা রাত থাকে। এখানের সব ভাল তা বলচি না তবে আললার কাচে শুকরিা অস্ট্রেলিয়ার মত .. .। .। .। বাংলাদেশ আগায় যাক .।"

 * জাপান থেকে আরেক  পাঠক লিখেছেন
   "পুরাই .,.,.,.,., জরিপ। বাংলাদেশ আর জাপান একই লেভেলে???? আমরা বাংলাদেশী যারা জাপানে আছি তাদের ১০০ জনকে প্রশ্ন করলে ৯৯.৯ জনই নিরাপত্তায় জাপানকে ১০০ তে ৯৫ দিলে বাংলাদেশকে ৪৫ ও দিবে না। দেশকে অবশ্যই ভালবাসি, কিন্তু সত্য কথা না বললে, সত্য সমালোচনা না করলে দেশ কখনই এগুতে পারবে না।"
  *জনৈক  পাঠক জরীপকারির মেন্টাল সিচুয়েশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন
    "সরি স্যার। এইটা বিশ্বাস করতে পারলাম না বাংলাদেশের নাগরিকেরা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের চেয়েও পুলিশের ওপর, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বেশি আস্থা রেখেছেন। আমার মনে হয় এই জরিপটা যারা করেছে তাদের হয় মাথার ঠিক ছিল না, নাহলে তারা ইচ্ছা করে আবোল তাবোল তথ্য দিচ্ছে।"
  * আরেক পাঠকের প্রতিক্রিয়া
"প্রলাপেরও একটা সীমা থাকে। কিন্তু ওই জরিপের তাও নেই।"
     সর্বোপরি  সীমানহীন হাস্যকর এই জরীপটা পাগল, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী অথবা সরকারী দলের মন্ত্রী -প্রতিমন্ত্রী, এম.পি আর লিডারদের উপর করা হয়েছে বলে অনেক পাঠক তাদের প্রতিক্রিয়ায় এমন  ধারনাই ব্যাক্ত করেছেন।

      গ্যালাপের বাংলাদেশ চাপ্টারের দায়িত্বে কারা আছে আমরা তা জানিনা এবং  কিভাবে জরীপ করা হয়েছে তাও জানিনা। এরা যদি অলস,  দুর্নীতিবাজ অথবা সরকারকে  সাপোর্ট করতে গিয়ে ঘরে বসে জরীপের কাজ সম্পন্ন করে ফেলেন  তাহলে আমাদের চিন্তার কোন কারন  নাই আর যদি এই চাপ্টারের মানুষগুলো সৎ,  কর্মপটু ওজনদার হয় এবং জরীপটা যদি পাড়া-মহল্লা,  রাস্তায়-ঘাঠ থেকে নেয়া, সাধারন খেটে খাওয়া  মানুষের হয়ে থাকে তাহলে এই রিজাল্ট নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কারন আছে!

   ২০১৪ সালের নির্বাচনে   কিম জন উন  ১০০% ভোট পেয়ে নর্থ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর মানে কি প্রতিটি মানুষ তাকে সাপোর্ট করেছে ? প্রকৃত কথা হলো  এক্সিকিউসনের  ভয়ে কেউ না ভোটে সিল দেয়নি।  যে কিম জন উন তার আপন চাচাকে বাঘের খাঁচায় ছুড়ে মারল তাকে সাপোর্ট না করে বড় ভাইকে চীন থেকে নিয়ে এসে প্রেসিডেন্ট বানানোর ষড়যন্ত্র করায়,  যে আপন স্ব্রাষ্ট্র মন্ত্রীকে কামানের গোলায় উড়িয়ে দিল তার বক্তৃতার সময় ঘুম ঘুম চোখে ঝিমানোর জন্য তার ১০০% ভোট পেয়ে নির্বাচিত হওয়ার মানে হলো সে দেশের জনগনকে ১০০% টেরোরাইজড করে রাখা।
  উত্তর কোরিয়ার মত বাংলাদেশের  মানুষের বাক সাধীনতা স্তব্ধ করে দিলে, সদা সর্বদা  লাঠিপেটা, জেল, জুলুম, গুম, গুলি, আর ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে  মানুষকে তটস্ত করে রাখলে মানুষ স্বাধীন ভাবে মনোভাব প্রকাশ করতে পারবেনা।  এমন অবস্তায় মানুষ চিন্তা করতে থাকে কি করলে সরকারের  নির্যাতন হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
     বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলার অবস্তা আমেরিকা-অষ্ট্রেলিয়ার চেয়ে উন্নত হয়ে যাওয়ার  কারন  হলো মানুষ ভয়ে সত্যি কথা বলতে পারতেছেনা। মানুষের বাক স্বাধীনতা নাই।  মানুষ জীবন্মৃত,  মানুষ নির্বাক। আইন শৃখলার প্রতি আস্তার এই পার্সেন্টিজ দেখে বুঝা যায় এই সরকার দেশের  মানুষকে কত  পার্সেন্ট  টেরোরাইজড করে রেখেছে।

    আমার যৌবনের অনেকটা বছর দেশে কেটেছে আর বিগত ১৭ বছর থেকে আমেরিকায় আছি।  দুইটা দেশের সামাজিক,  সাংস্কৃতিক এবং আইন শৃংখলা পরিস্তিতি একেবারে ভেতর থেকে দেখার আমার সুযোগ হয়েছে।
       প্রতিরাত দেড়টায় কাজ শেষ করে সেন্ট্রাল পার্কের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ফিফ্থ  এভিনিউ ধরে  বাতাস খেতে খেতে ৭ব্লক দুরের সাবওয়ে ষ্টেশনে যাই। অজস্র মেয়ে ছেলে যুবক বুড়ো  স্নিকার আর  টি শার্ট পড়ে   সেন্ট্রাল পার্কে জগিং করতে ঢুকে। দুচারজনের সাথে  কুকুরও থাকে, নিরাপত্তার জন্য নয়, কুকুরকে  নিয়মিত হাটাতে  হয় বলে   কেউ নিজে হাটায়  অথবা অন্য কাউকে $৩০ ঘন্টায় পরিশ্রমিক দিয়ে হাটাতে পাটায়।
       বাংলাদেশের পার্কে চোর,  ডাকাত,  পতিতা আর মাদকের আড্ডা। দিন দুপুরে যেখানে পুরুষ  ঢুকতে ভয় পায় সেখানে রাতে মেয়েদের পার্কে যাওয়ার চিন্তা করা দুরে থাক  পার্কের কাছে ভিড়া মানেই নিজের  সর্বনাশ নিজেই ডেকে আনা।
       বাংলায় একটা কথা আছে বাঘে ছুঁইলে এক ঘা আর পুলিশে ছুঁইলে আটারো ঘা। বাংলাদেশের  মোরব্বীরা তাদের সন্তান সন্ততিকে একটা কথা স্মরন করিয়ে দেন কোন অবস্তায়ই পুলিশের কাছে যাওয়া যাবেনা।
        এই ধারনাটা বাংগালীর মননে এবং মগজে  এমন ভাবে পাকাপোক্ত হয়ে বসে আছে যে এই সুদুর আমেরিকা-লণ্ডনে চোর-ডাকাতের পাল্লায় পড়েও বাংগালী  পুলিশ কল করেনা। চোর ডাকাতরাও জেনে গেছে বাংগালী পুলিশ কল করেনা তাই বেছে বেছে বাংগালী ফ্যামেলি দেখে চোরি-ডাকাতি করে। অথচ কথা না বলে শুধু  ৯১১ কল দিলেই মুহুর্তের মধ্যে পুলিশ এসে উপস্তিত হয়।

  দেশে যদি এতই শান্তির নুহর প্রবাহিত  তবে কেন মানব জমিন রিপোর্ট করেছে শধু মাত্র  গুলশান থানায়ই নাকি নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে  কয়েক হাজার জিডি করা হয়েছে।  জিডি করার পরও ঘাতকের ছুরির আঘাতে লাশ বনতে হচ্ছে নিরাপত্তা চাওয়া লোকদের। এক মাত্র ঢাকা ইউনিভারসিটির ভিসি আর নামকরা দু-একজন ছাড়া আর কারো নিরাপত্তা নিয়ে  পুলিশের মাথা ব্যাথা নেই।

      গ্যালাপের যে জরীপ নেয়া হয়েছে তা যদি গান ম্যান নিয়ে চলাফেরা করা বিশিষ্ট জন,  আওয়ামিলীগের মন্ত্রি -এম.পি অথবা আওয়ামিলীগ ও তার অংগ সংঘটনের নেতাকর্মী আর ক্যাডারদের  কাছে থেকে নেয়া হয়ে থাকে তাহলে রিজাল্ট ঠিকই আছে। পুলিশ,চোর ডাকাত এদের কোন কিছু করা দুরের কথা, উল্টো  এরা র‍্যাব,পুলিশকে ধরে বাদর পিটুনি পিটায়।

    মাতৃগর্ভ সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ যায়গা - এই চিরন্তন সত্যটাও সরকার দলীয় ক্যাডারের হাতে  আজ ভুলুন্টিত হয়েছে।  মাতৃগর্ভের সন্তানও আজ তাদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়, তাদের লাথি গুতোয়  এই সেই দিনও এক  নিরপরাধ হিন্দু রমনী মৃত সন্তান প্রসব করেছে। যে দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেন " কারো বেডরুমের  নিরাপত্তা তিনি দিতে পারবেন না"  সেই দেশের  মানুষেরা দোকান-পাটে ,  রাস্তা-ঘাটে, হাটে-বাজারে  নিরাপদ থাকার প্রশ্নই আসেনা।
    চাঁদাবাজির কারনে ফুটপাতের দোকানদার থেকে সুপারমার্কেটের মালিক, পত্রিকার হকার থেকে গরুর পাইকার কারো রেহাই নেই।  যায়গা দখল,  টেন্ডারবাজী,  ইভটিজিং, নারী ধর্ষন আর নারী নির্যাতন যেখানে পান্তাভাত সেখানে মানুষ এত নিরাপদ অনুভব করে কেমন করে হয়?
  হয় মানুষ গুলো মরে গেছে তার যাওয়ার আর কিছু বাকি নাই নতুবা তারা ভয়ে মিথ্যা বলছে।  রাস্তাঘাটে গাড়ী-ঘোড়া চলতে পারেনা পুলিশের বখরা আর চাদাবাজের দৌরাত্ম্যে। টাকার জন্য কিডন্যাপ আর হত্যা করা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কিডন্যাপ কে করেনা আজ :
র‍্যাব কিডন্যাপ করে,পুলিশ কিডন্যাপ করে,  মাস্তান  কিডন্যাপ করে,  কিডন্যাপে জড়িত সরকারী দলের ছোট বড় ক্যাডাররা। আইন -শৃঙ্খলা বাহিনীর নামে ঘর, অফিস, বাস, ট্রেন  থেকে তুলে নিয়ে যায় সাদা পোষাক ধারী বিশেষ  বাহিনীর লোকজন,  দুদিন পর লাশ পাওয়া যায় খাল বিল নদী নালা বা ধানী জমিতে হাতে হ্যান্ডকাপ লাগানো  উপুর হয়ে পরা।

     এই জরীপের রিজাল্ট যারা বিশ্বাস করে তারা  কুয়োর ব্যাংয়ের মত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন,  তাদের বাস অজো পাড়াগাঁয়ে অথবা রিমোট কোন দ্বীপের। তাদের দেখা দেশের সবচেয়ে বড় নেতা ইউনিয়নের চেয়ার ম্যান  আর বড় সরকারী কর্মকর্তা হলেন ইউনিয়ন অফিসের সেক্রেটারি। আমেরিকায়ও এদের মত বিচ্ছিন্ন কিছু পোলাপান  আছে যারা গরীব বলতে এমন মানুষকে বুঝে যাদের  রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাওয়ার সামর্থ্য নাই তবে এরা ঘরে রান্না করে দুবেলা চিকেন আর পটেটো খাওয়ার সামর্থ্য রাখে।
    এক সময়  মরুর লোকেরা পানি বলতে বুঝতো  লবনাক্ত পানীয়কে। জীবনে এরা সুস্বাদু  মিঠা পানির  স্বাধ কোন দিন পায়নি বলে তাদের একজন  দুদিন আগের পচা-বাসি বৃষ্টির পানিকে অমৃত মনে করে বাদশাহ হারুনুর রশিদের দরবারে তুহ্ফা হিসাবে নিয়ে উপস্তিত হয়েছিল।
    যে সব সময় আগুনের ভিতর থাকে,  আগুনটাকেই তার শান্তির নীড় মনে করে।   কারোব ধ্যান ধারনা  চিন্তা চেতনা যদি কোয়োর  ব্যাংগের মত সামান্য  গন্ডির মধ্যে  সীমাব্ধ থাকে তার পক্ষ্যে সংকীর্নতার কারাগার থেকে বেরিয়ে আসা অসম্ভব।

  কবি লিখেছেন
  "চিরসুখীজন ভ্রমে কি কখন - ব্যথিতবেদন বুঝিতে পারে।
   কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে - কভূ আশীবিষে দংশেনি যারে।"

  কবির এই কথাটিকে ঘুরিয়ে বলা যায়
  "চির দুঃখীজন ভ্রমে কি কখন - সুখ কারে কয় বুঝিতে পারে।"

  চীরকাল  খারাপ ব্যাবহার পেয়ে আসা লোকজন ভালো ব্যাবহারটা যে কি জিনিস  তা কল্পনাই করতে পারেনা।

    বাংলাদেশের র‍্যাব  পুলিশের উপর মানুষের আস্তা হঠাত করে এতো বেড়ে গেলো কেনো বুঝে উটতে পারলাম না। মোল্লা নজরুল ইসলাম ও তার টিম ব্যাবসায়ীকে  ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৫কোটি টাকার ঘুষ আদায় করেছিল। সংসদেও এ নিয়ে আলাপ হয়েছে।  বিচারে তার কি শাস্তি হয়েছে কভু কি শুনেছেন : ঘুরার ডিম। লিমনকে পংগু করে দেওয়া, নারায়ন গঞ্জের সাত খুন,  রাজন হত্যাকারীকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া,  রাজনের বাবাকে হয়রানী করা,  ধর্ষনের মামলা করতে থানায় গিয়ে পুলিশ কর্তৃক ধর্ষিত হওয়া,চুরি ডাকাতি রাহাজানি ছিনতাই থেকে নিয়ে এমন কি নেই যে তার সহিত পুলিশ জড়িত থাকার পরমান নাই!
    সাগর রুনীর হত্যাকারী পুলিশ খোঁজে বের করাতো দুরের কথা উল্টো ডি.এন.এর সিম্বল,  ফিংগার প্রিন্ট কোন কিছুই তারা সংগ্রহ করে রাখেনি যাতে হত্যাকারীকে খোজে পাওয়া যেতে পারে।
     অথচ আমেরিকার পুলিশ তাদের পুরোপুরি  বিপরিত কাজ করে। ১৯৯১এ হাইওয়ের পাশে  ঝুপের  মধ্যে পড়ে থাকা  নাম পরিচয়হীন পচে যাওয়া  বিকৃত  লাশকে  আরটিস্ট দিয়ে কাল্পনিক ড্র করে, নাম- পরিচয় খোঁজতে তৎপরতা শুরু করে ।তাদের সংকল্প  ছিল  যতক্ষন পর্যন্ত না লাশের   প্রকৃত পরিচিয় পাওয়া যাবে ততোদিন পর্যন্ত এই মৃতের নাম থাকবে   "Baby Hope"  । ২৩ বছর পর কোন এক মহিলার ডি.এন.এর সহিত  এই "Baby Hope"-এর ডি.এন.এর   মিল খোঁজে পেয়ে, মহিলার কাছ থেকে কৌশলে   নিহত শিশুরটির নাম  পরিচয় বাহির করে। পরিশেষে ২৩ বছর পর তার ঘাতককে  বিচারের সম্মুখীন  করতে সমর্থ হয়।
      ফেইসবুকে একটা কৌতুক পড়েছিলাম, কৌতুকটা  আপনাদের সাথে শেষ করলাম।
                  আমেরিকার প্রেসিডেন্ট  বারাক ওবামার লম্বা লোমওয়ালা  কুকুরটা ওয়াশিংটন ডিসির পার্ক থেকে হারিয়ে গেছে।  কুকুরকে খোঁজতে আমেরিকান পুলিশের সাথে যোগ দিয়েছেন বৃটিশ পুলিশের একটা চৌকশ বাহিনী । তারপরও কোন গতি হচ্ছেনা দেখে বাংলদেশের করিৎকর্মা পুলিশের সাহায্য চাওয়া হলো।   মি: ওমর  টাকলার নেত্রীত্বে ডিবি পুলিশের একটি এক্সপার্ট টিম ওয়াশিংটনডিসিতে গেল সাহায্যের জন্য । কুকুরের  ছবিসহ  বিস্তারিত ব্রিফিং নিয়ে  মি:  টাকলা ওয়াশিংটন ডিসি পার্কের দিকে  অন্যান্য দলের মত  কুকুর খোঁজায় বেরিয়ে পরলেন।
   বিকেলের দিকে আমেরিকান পুলিশ - বৃটিশ পুলিশ  কিছু ক্লু  এই যেমন লুম,  পায়ের চাপ, গন্ধ,  মাটিতে পেল্টে থাকা রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে  ফিরে এলেন,  ল্যাবরেটরিতে বিশ্লেষন করে পরবরতি পদক্ষেপ নেবেন বলে। রাত ঘনিয়ে আসছে, এদিকে বাংলাদেশী টিম ফিরছে না দেখে হোয়াইট হাউজ কর্তৃপক্ষ আমেরিকান পুলিশকে  খোঁজতে পাটালেন।
    একটু দুরে ঝুপ-ঝারের  আড়ালে  বিরাট  চেঁচামেচি হচ্ছে শুনে আমেরকান পুলিশ একটু   এগিয়ে যেতেই দেখলো বাংলাদেশী পুলিশের দল একটি রামছাগলের পিছনের দুপা গাছের ডালের সহিত ঝুলিয়ে দেদার পেটাচ্ছে  আর  "স্বীকার কর তুই ওবামার কুকুর, স্বীকার কর তুই ওবামার কুকুর"  বলে উচ্চ স্বরে চিতকার চেঁচামেচি করছে, আমেরিকান পুলিশ শুনেতো  হা......স্পিচলেস হয়ে গেল।

( Date: November 24, 2015)

Last modified on Friday, 03 July 2020 22:07
Rate this item
(1 Vote)
Login to post comments
  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular
X

দুঃখিত !

ওয়েব সাইটে এই অপশন নাই।