Login to your account

Username *
Password *
Remember Me

Create an account

Fields marked with an asterisk (*) are required.
Name *
Username *
Password *
Verify password *
Email *
Verify email *
Captcha *
Reload Captcha
Saturday, 08 June 2019 16:07

জীবে দয়া করে যে জন, সে জন সেবিছে ইশ্বর.

শহর থেকে অনেক দিন পর গায়ে এসেছিলাম সেবার। বিকালের পড়ন্ত রুদে বন্ধুদের সহিত আআড্ডা দিতে বাজারে গেলাম। মোটর সাইকেলটা বন্ধ করে চায়ের ষ্টলে ঢুকতে গিয়ে আসক আলী ভাইয়ের সাথে দেখা, তাকে চিন্তে কষ্ট হচ্ছিল তারপরও স্টলের সদর দরজার ডান পার্শের হাতল ওয়ালা চেয়ারে বসা দেখে মনে হলো তিনিই আসক ভাই। এটা তার নির্দিষ্ট সিট, তিনি ছাড়া এমন সময় এই সিটে কারো বসা নিষেধ । তাকে জীর্ণ শীর্ন বিধস্ত শরীরে বৃদ্ধ মানুষের মত লাগছে। তার হাতে লাটি আর গলার চতুর্দিকে বেন্ডেজ বাধা দেখে জিগ্যেস করলাম "কি হয়েছে আপনার "। উত্তরে বল্লেন "ঘরের চাল থেকে পড়ে গিয়ে ঘাঢ় মছকে গেছে। ডাক্তার সাহেব বেন্ডিজ করে দিয়েছেন " এও বল্লেন যে তিনি কোন কিছু চিবিয়ে খেতে পারেন না, মাড়িতে ব্যাথা পেয়েছেন প্রচন্ড। 

আসক আলী ভাই বাজারে আছেন আর বাজার টান্ডা এমনটি এর আগে কখনও হয়নি। তিনি বাজারের উপর উটলেই হৈ হল্লুড় আর চিক চিতকারে সারা বাজার মাথায় তুলে ফেলতেন । তিনি দাবা, কেরাম যাই খেলতে বসেন না কেন সেখানে বাজি ধরবেনই, তাস খেলাতেতো বাজি আছেই। একদিন এক মরিছ বিক্রেতার সাথে মরিছে ঝাল আছে কি না, এই নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় তিনি নিজের বাহাদুরি দেকাতে গিয়ে বেশ কয়েকটা নাগামরিছ হুদাই খেয়ে ফেলে ছিলেন। মুখের জ্বালাপুরা আর পেঠের পীড়ায় সপ্তাহ দুয়েক বিছানায় পড়ে থাকলেও তার বেটাগিরি কিন্তু শেষ হয়নি।

তার মত শক্ত সামর্থ্য মানুষ, যে নাকি মুহুর্তের মধ্যে আম গাছ জাম গাছে লাফিয়ে ওঠে, সামান্য ঘরের চাল থেকে পড়ে এত বড় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হবেন, শুনে আমার বিশ্বাস হলোনা। আর সবচেয়ে বড় কথা হল তার মূল ঘরের চালে টিনের ছাউনি সেখানে উটারতো কোন দরকার নাই, শধু পাকের ঘরের চালে ছনেরর ছাউনি। এই ঘরের চালটা এত নিচু যে তার মত ৬ফুট লম্বা মানুষ মাটিতে দাড়িয়ে হাত লম্বা করলেই চালের সব টুকু তার হাতের নাগালে চলে আসবে। সব সময় পৌষ মাঘ মাসে দেখেছি কাজের লোকেরাই তার রান্না ঘরের চাল মেরামত করে দিতে হটাত করে এমন কি হল যে নিজেকেই চাল মেরামত করতে হবে। আমার মনে হলো তার আহত হওয়ার পিছনে কোন ধরনের দুই নম্বরী কিছু আছে।
আমার এমন মনে হওয়ার কারন হলো এর ধরনের দু একটা ঘটনা ইতিপূর্বে ও তার জীবনে ঘটেছে। এক বার হবিগঞ্জ থেকে আসার পথে বাসে সিটে বসা নিয়ে ঝগড়া বাদে আরেক পেসেঞ্জারের সাথে। তিনি তাকে ধাক্কা দিতেই সে "পকেট মার.. পকেট মার" বলে চিতকার চেঁচামেচি শুরু করে দেয়। পাবলিকের মার, কোন কিছু কেউ জানুক আর না জানুক তাকে ধরে উত্তম মধ্যম দেয়া শুরু করে দিল।, যতই তিনি বলেন আমি পকেট মার না ততই তার উপর পাবলিক ক্ষেপে। মৌলুভী বাজার বাস ষ্ট্যান্ডে বাস থামলে ড্রাইভার ঝামেলা মনে করে তাকে সেখানে নামিয়ে দেয় বাস থেকে, ভাগ্য ভাল ছিল তার, পাশেই তার ফুফাতো ভাইয়ের দোকান , পকেট মার ধরা হয়েছে শুনে তার ফুফাতো ভাই দোকান থেকে বাহির হয়ে দেখেন আসক আলী ভাইকে লোকজন মারছে। তিনি লোকজনকে থামিয়ে সে যে তার মামাতো ভাই এই বলে পরিচয় দিলেন আর জিগ্যেস করলেন কার পকেট মার হয়েছে? কেউ কোন উত্তর না দিয়ে মুহুর্তের মধ্যে হাওয়া হয়ে যায়। এই মারের পর অনেকদিন আসক আলী ভাইকে হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে। 

তার এমন অবস্তা হওয়ার পিছনে আসল রহস্য কি জানার জন্য বাজারের অনেককে জিগ্যেস করেছি। কেউ কোন সদ উত্তর দেয়নি। কেউ বলে তিনি চাল থেকে পড়েছেন আবার কেউ বলে তিনি আম গাছ থেকে পড়েছেন।এখন দেখি স্তান কাল পাত্র ভেদে কাহিনীরও পরিবরতন ঘটতেছে। কাহিনীর এমন পরিবরতন দেখে আমার আগ্রহও বেড়ে যায় মুল ঘটনা জানার জন্য। এই লোকচুরির পিছনের আসল কারন হল তিনি যদি শুনেন কেউ তার সম্মন্দে মানুষের কাছে খারাপ কোন কিছু বলছে তবে তার মাথা বাড়ি দিয়ে ফাটিয়ে ফেলতেও দিধাবোধ করবেন না। 
আসল ঘটনা শুনার জন্য পরের দিন সকালে দুষ্টের শিরোমণি আমার গায়ের দুর সম্পর্কের এক ভাতিজার স্মরনাপন্ন হলাম। তার বায়না হলো তাকে মিষ্টি খাবার পয়সা দিতে হবে, যথারীতি ১০ টাকা দেয়ার পর তার কাছ থেকে যে তথ্য পেলাম তা ছিল ছিল রীতিমতো পিলে চমকানো। 
তাকে আর্মি চেয়ারম্যানের অফিসের বারান্দায় ফেলে গরুর মত পিঠিয়েছে। তার উপর পিঠুনির মাত্রা দেখে স্বয়ং চেয়ারম্যান সাহেব নিজেই নাকি বেহুস হয়ে গিয়েছিলেন। মুল ঘটনা হলো, সেবার বন্যার রিলিফের তদারকি করতে আর্মি এসেছিল আমাদের ইউনিয়ন অফিসে। আর চেয়ারম্যান সাহেবের খাস মানুষ হিসাবে রিলিফ বন্টনের দায়িত্বে ছিলেন আসক আলী ভাই। সেদিন কোন এক দরিদ্র মহিলা রিলিফ নিতে এসেছিল- যে নাকি চেয়ারম্যানকে ভোট দেয়নি, তিনি তাকে রিলিফ না দিয়ে যাচ্ছে তাই কথাবার্তা বলে বেইজ্জত করে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন । মহিলা কেদে যাচ্ছে দেখে আর্মি জিগ্যেস করেছিল তার কান্নার কারন কি। মহিলা যখন বল্ল আমি ভোট দেইনি বলে চেয়ারম্যানের চেলা আমাকে রিলিফ না দিয়ে বেইজ্জত করেছে, আর্মি মহিলার কথা শুনতে দেরী হয়েছিল কিন্তু একশন নিতে দেরী হয়নি, মুহুর্তের মধ্যেই আর্মি তাকে কিল ঘুষি আর লাথি গুঁতা দিয়ে বেহুঁশ করে হসপিটালে পাটিয়ে দেয়। সেই থেকে তার এই অবস্তা, ভাল করে চলতে পারেন না। ঘাঢ় বাকা করে হাটেন।
তার ঘাঢ় বাকা করে হাটার অবস্তা দেখে বিশ বছর আগে পাশের বাড়ির সবুরদের ঘাঢ় বাকা হয়ে যাওয়া গাভীটির কথা মনে পড়ে গেল। বিনা কারনে শুধু তার উঠোনের ঘাস খেয়েছিল বলে তাকে এমন মার মেরেছিলেন যাতে গাভীটির ঘাঢ় বাকা হয়ে গিয়েছিল । তার কষ্ট দেখে সবুর কেঁদে ছিল, গাভীটির চোখের পানির কথা মনে হলে আজো সবুরের চোখে জল চলে আসে। সেদিন সবুরদের দিকে তাকিয়ে গাভীটি কি আর্তনাদ করে ছিল তার ভাষা না বুঝলেও নিজের আপনজনের আঘাতের প্রতিবাদ করতে চেয়েছিল সবুর.....
সবুরের মনের অবস্তা খারাপ দেখে তার মা একটা কথা বলেছিলেন যা আজও সবুরের কানে বাজে। তার মা বলেছিলেন আল্লাহ এক জন আছেন যিনি সরব শক্তিমান, প্রক্রিত বিচারক, তিনি সব কিছু দেখছেন। কেউ তার কাছে বিচার চাক বা না চাক, আল্লাহ তার বিচার করবেনই। গরু একটা হায়মান প্রানী, কেউ যদি তাকে অযথা কষ্ট দেয় তার জন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে। তাকে এই দুনিয়ায় এর শাস্তি পেতে হবে নতুবা আখেরাতে। তার এই অবস্তা দেখে সবুরের আল্লাহর বিচার সম্পর্কে আর একটু মাত্রও সন্ধেহ রইলনা।

আমাদের আসক আলী ভাই একটা আজব কারেক্টার , তার নাম শুনলেই শিশুরা ভয়ে অস্তির হয়ে যায়। বড়দের কেউ কেউ আরালে অবডালে তাকে গদা আসক নামে ডাকেন তবে চার চক্ষু সম্মুখে কেউ তাকে এই নামে ডাকতে সাহস করেনা। আবার এর উল্টোটাও দেখা যায়, কোন কোন শিশু তার জন্য পাগল। এই শিশুরা সব সময় তার পিছনে ঘুর ঘুর করে।
আসক আলী ভাইয়ের মুল সমস্যা হল অনিয়ন্ত্রিত রাগ, রাগ উটলে তিনি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তার বাড়ীতে আম জাম কাঠাল কলা আর আনারস গাছে ঠাসা, তিনি এসব ফফসলী গাছের যত্ন করেন বলে এসব তার বাড়িতে অন্যান্য বাড়ির চেয়ে বেশী ফলে। তিনি কাঠালের সময় গাছের কাঠাল, আমের সময় আম, জামের সময় জাম সবার আগে শিশুদের ডেকে খাওয়ান। বাজারে বেচাবিক্রি করেন তার অনেক পর। তিনি শিশুদের খুব ভালবাসেন, আবার এই শিশুই যদি তার বাড়িতে আম খেতে গিয়ে হুড়োহুড়ি করে কোন ফুল অথবা ফলের গাছ ভেংগে ফেলে তবে তিনি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে শিশুটিকে এমন চড় থাপ্পড় মারবেন এতে করে শিশুর যে মৃত্যুও ঘটতেপারে সেদিকে তার খেয়াল থাকেনা। কোন শিশু একবার তার হাতের উত্তম মধ্যম খেলে বাকী জীবনে তার থেকে কিছুটা দুরত্ব বজায় রেখে চলে, এটাই স্বাভাবিক । 
তিনি পশু পাখি একদম দেখতে পারেন না। তার উঠোনে গরু ছাগল ঢুকলে মহল্লায় খবর হয়ে যেত। হঠাত একদিন সকালে ভে ভে ডাক শুনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখি তিনি পাশের বাড়ির সবুরদের একটা গাভীকে বাশের লাঠি যাকে গদা বলে থাকি দিয়ে পেঠাচ্ছেন চক্ষুবুজে। তার লাঠির বাড়ি খেয়ে গাভীটি হাউ মাউ আর কান্নার মত বিচিত্র শব্দ করে তাদের বাড়ির দিকে পালিয়েছে। গাভীটি ছিল অস্ট্রেলিয়ান প্রজাতির, গায়ে গতরে অনেক বড় হয়ে গেলেও এখনও বাচ্ছা দেয়নি। এই মারের পর গাভীটি আর ঘাঢ় সুজা করে চলতে পারতো না। কেমন যেন মন মরা হয়ে থাকত সব সময় । তার কষ্ট হচ্ছে দেখে সবুররা কোরবানির ঈদে গাভীটিকে কোরবানি দিয়ে দেয়। আজও গাভীটির জন্য তাদের মন কাদে। গাভীটি তার কোন ফল ফুল নষ্ট করেনি, শুধু উঠোনে গজিয়ে উটা ঘাস খেয়েছিল। এটুকুই ছিল গাভীটির অপরাধ।এর পর থেকে দেখতাম তার উঠোনে কোন ঘাস লতাপাতা জন্মায়নি, শুনেছি তিনি নাকি উটোনে এন্ড্রিন জাতীয় ঐষধ দিয়ে ঘাসকে জালিয়ে দিতেন, কে জানে কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা। 
তার বিয়ের বয়স চলে যাচ্ছে দেখে তার গোষ্টির মোরব্বীরা ধরে তারই এক ফুফাতো বোনকে তার সহিত আকদ পড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাদের বিশ্বাস ছিল বিয়ে সাদি করলে তার রাগ ঘোষা কমে যেতে পারে। তিনি ভাল হয়ে যাবেন। ভালো হওয়াতো দুরের কথা তিনি বউকে বারীতেই তোলেননি। তাকে যখন বিয়ের অনুষ্টানের তারিখ দেয়ার জন্য বলা হচ্ছিল তখন তিনি এটা সেটা বায়না ধরতে শুরু করলেন। ও আমাকে সালামী দিলনা, কেমন আছি জিগ্যেস করলনা, হম্বি তম্বি নানান ঝক্কি ঝামেলা। একদিন বউ ঘরে তুলব আরেকদিন তুলবনা। এদিকে যে মেয়ের সহিত আগদ হয়েছে সে তাকে জমের মত ভয় পেত। সে মেয়ে আগদের পর থেকে নফল নামাজ পড়া আর রুজা রাখা শুরু করে দিলেন। হঠাত একদিন বিকালে বিয়ের বিষয়ে আলাপ আলোচনা হবে বলে আসককে তার শ্বশুর বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে নেওয়া হল। খাওয়া দাওয়ার পর মধ্যরাতে তারা জুড় করে তার কাছ থেকে তালাক নামা লিখিয়ে নেয়। 
এর অনেক দিন পর তার ফুফাতো বোন আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসলে সে বল্ল আকদের পরের দিন থেকে সে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেছে যেন ওর বাড়িতে না যেতে হয়। মাসের পর মাস রুজা রেখেছে। শত শত রাকাত নফল নামাজ পড়েছে।

তার পাষের ঘরই ছিল জবানুল্লা চাচার, প্রতিদিন তাদের সাথে তার হাস, মুরগি, আর বিড়াল নিয়ে তার ঝগড়া হতো। তিনি হাউ মাউ আর চিক চিতকয়ার করে সমস্ত গা মাথায় তুলে নিলেও জয়নুল্লা চাচার ঘরের লোকজন তেমন কিছু বলত না। আসক কিছু সময় চিক চিতকারের পর যখন দেখতো প্রতিপক্ষ কোন বাদ প্রতিবাদ করতেছেনা তখন নিজ থেকেই বন্ধ হয়ে যেতে। তবে জয়নুল্লা চাচার বিড়াল গুলো নাকি ছিল বদের হাড্ডি, চোখের পলকে নাকি তারা তার হাড়ি পাতিল এমনকি পাতের মাছ মাংস নিয়েও চলে যেত। এদের ডিস্টার্ব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আসক আলী খাবারের পাতিল নিয়ে বসার পুরবে সমস্ত বাড়ি বাশের লাঠি নিয়ে কয়েক ববার ঘুরে আসেন। এখানে বাড়ি দেন ওখানে লাথি মারেন এমনকি ঝুপ ঝার ও বাকি থাকেনা তার রেকি করার। তিনি এতটুকু করার পরেও একদিন যখন দেখলেন বিড়াল খাবার পাতে মাছ ভাজি তোলা মাত্রই এসে উপস্তিত, ভিতরে ভিতরে বেড়ালকে শাস্তি দেয়ার জন্য তিনি প্লান করলেন। হাতে থাকা কই মাছের মাথাটা রান্নাঘরের ফ্লোরে ছুড়ে মারলেন, মুহুর্তের মাঝেই বিড়াল ডান পা দিয়ে মাছের মাথাটাকে শীলপাঠার কাছে নিয়ে খেতে লাগলো। আসক ভাই চোখ বুঝে দুহাতে বাশের লাঠিটেকে নিয়ে গায়ে যা শক্তি ছিল তা দিয়ে বেড়ালের উপর বাড়ি বসালেন। বিড়াল তার শরীরটাকে ন্যুয়ে দেয়ায় লাঠিটার আঘাত গিয়ে লাগে শীল পাঠার উপর। লোহার মত শক্ত লাঠি থাকার কারনে লাঠিটা না ভেংগে দ্বিগুণ বেগে ফিরে এসে তার মুখে আঘাত হানে। তার চিক চিতকার আর কান্নার শব্দ শুনে আসে পাশের লোকজন দৌড়ে গিয়ে দেখেন তিনি অবচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে আছেন, তার মুখ দিয়ে রক্ত ঝড়ছে। মাথায় পানি দিয়ে তাকে হসপিটালে নেয়া হলো। লোকজন বুঝে উঠতে পারলো না কার এত সাহস যে দিন দুপুরে তার বাড়ির উপর এসে তাকে মারল। লাঠিটাকে ক্রাইমের ইভিডেন্স হিসাবে গায়ের মোরব্বীদের কাছে জামানত রাখা হল। 
ইতিমধ্যে আসকের মুখ ফুলে ফুটবল হয়ে গেছে। ডাক্তাররা তাকে ঘুমের ঔষধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছেন যন্ত্রনার হাত থেকে বাচার জন্য। মোরব্বীরা ডাক্তারের সাথে কথা বলে রেখেছেন কেউ যদি আজ রাতের মধ্যেই এসে তার কাছে ক্ষমা না চায় এবং গ্রাম্য সালিস মত জরিমানা না দেয় তবে আগামীকাল এসে ডাক্তারী সার্টিফিকেট নিয়ে থানায় মামলা করা হবে। সার্টিফিকেটের জন্য যত টাকা লাগে তারা দেবেন।
গায়ের মোরব্বীরা চরম ভাবে ক্ষেপে গেছেন, "কত বড় সাহস!" ঘোষনা দেয়ার পরও রাতের মধ্যে কেউ এসে ক্ষমা চাইল না, তার মানে সে মোরব্বীদের সম্মান করেনা। "সে যাই হোক তাকে দেখিয়ে দিতে হবে" আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে মোরব্বীরা আসককে দেখতে হাসপাতালে গেলেন। আসক এক টানা ২৪ ঘন্টা ঘুম দিয়ে এই মাত্র জেগেছে। মোরব্বীরা জানতে চাইলেন কে তাকে মেরেছে? কোন উত্তর না দিয়ে আসক ভে ভে করে কান্না শুরু করে দিল। মোরব্বীরা যতই চাপাচাপি করেন সে ততই কাদে। এর পর কাদো কাদো ভাংগা গলায় যা বলেছিল তার অরথ এই দাঁড়ালো, 
সে জানেনা কে তাকে মেরেছে শুধু এ টুকুই জানে সে গায়ের জুড়ে বিড়ালকে বাড়ি দিয়েছিল, বিড়ালের উপর বাড়ি না পড়ে শীল পাঠার গায়ে লেগেছিল বাড়িটা, এর পর আর সে কোন কিছু বলতে পারেনা। মোরব্বীরা মামলা করাতো দুরের কথা এখন নিজেরাই ভয়ে কাঁপছেন আসকের গল্প শুনে, তাদের ধারনা বিড়ালের রুপ ধরে কোন ভুত প্রেত তার বাড়িতে উপস্তিত হয়ে গিয়েছিল।

(আমার লিখা গল্প, পুরুটাই কাল্পনিক।)

Last modified on Saturday, 08 June 2019 16:46
Login to post comments
  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular
X

দুঃখিত !

ওয়েব সাইটে এই অপশন নাই।