• 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
 

Items filtered by date: Sunday, 11 July 2021

হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ মিলাদ এমপির ব্যক্তিগত অর্থায়নে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (১০ জুলাই) বিকেলে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্øেক্সের সভাকক্ষে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিই) সৈয়দ আবু ফয়েজ তোহার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ মিলাদ, নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষকলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রেজা আহমেদ চৌধুরী, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি উত্তম কুমার পাল হিমেল, নবীগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইকবাল আহমেদ বেলাল। অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নবীগঞ্জ উপজেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম অপু, নবীগঞ্জ পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, উপজেলা যুবলীগ নেতা রুহেল আহমেদ, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ চম্পক কিশোর সাহা সুমন, মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইমরান আহমেদ চৌধুরী, ডাঃ আসিফ আবেদীন, ডাঃ হানিফ মোতাহার, ডাঃ ফয়সল আহমেদ, ডাঃ নির্মল কান্তি ঘোষ, ডাঃ নাঈম আশরাফ, ডাঃ আফজাল আহমেদ, নবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আলমগীর চৌধুরী সালমানসহ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে দুটি অক্সিজেন সিলিন্ডার তোলে দেন সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ মিলাদ।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকা-ের ঘটনায় প্রাণ হারান নবীগঞ্জ উপজেলার স্বপ্না রাণী (৩৫)। মাকে হারিয়ে দিশেহারা ৫ সন্তান।পরিবারের চলছে শোকের মাতম। মা স্বপ্নাকে বাচাঁতে মেয়ে বিশ্বখাঁ রাণী ঘুরেছেন মানুষের দ্বারে-দ্বারে।সহযোগিতায় কেউ আসেনি এগিয়ে।বঞ্চিত হয়েছেন চিকিৎসা সেবা থেকেও। ভাগ্যগুণে মেয়ে বিশ্বখাঁ রাণী বেঁচে গেলেও বেঁচে ফিরতে পারেননি স্বপ্না রাণী।নিহত স্বপ্না রাণী নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোলডুবা (শ্যামলী) গ্রামের জতি নম’র স্ত্রী।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অভাব অনটন দূর করতে ও ভাগ্য পরিবর্তণের আশায় চলতি বছরের শুরুর দিকে জতি নম স্ত্রী স্বপ্না ও সন্তানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কাজে যান।সেখানে গিয়ে সেজান জুসের নতুন কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন স্বপ্না রাণী ও পুরাতন কারখানায় কাজ করতেন মেয়ে বিশ্বখাঁ

রাণী। কাজ না থাকায় প্রায় প্রতিদিনই মা স্বপ্নার সাথে মেয়ে বিশ্বখাঁ রাণী সেজান জুস কারখানায় যাওয়া আসা করতেন। গত বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) প্রতিদিনের ন্যায় সকালে এক সাথে বাসা থেকে বের হয়ে কারখানায় যান স্বপ্না। মেয়ে বিশ্বখাঁ রাণীর কাজ থাকায় ওইদিন মায়ের সাথে তার সেজান জুস কারখানায় যাওয়া হয়নি। প্রতিদিনের ন্যায় কারখানার ৩য় তলায় কাজ করছিলেন স্বপ্না রাণী। হঠাৎ চারিদিকে আগুন ও চিৎকার চেচামেচি শুনে দৌঁড়ে সেখানে যায় স্বপ্নার মেয়ে বিশ্বখাঁ রাণী। গিয়ে চারিদিকে পড়ে থাকতে দেখেন লাশ আর লাশ। নিজের মাকে না পেয়ে পাগলের ন্যায় খুঁজতে থাকেন চারিদিকে। হঠাৎ কারখানার পাশে মা স্বপ্না রাণীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন বিশ্বখাঁ। পরে মাকে বাঁচাতে হাসপাতালে নিয়ে যেতে অনেকের সহযোগিতা চান। কিন্তু কাংিখিত সহযোগীতা পায়নি। পরে অনেক প্রচেষ্টার পর স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান মা স্বপ্নাকে। কিন্তু বার বার ডাক্তার নার্সকে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য স্বপ্নার দেহ ভিতরে নেয়ার অনুরোধ করলেও স্বপ্নার দেহ হাসপাতালের বাহিরে ফেলে রাখা হয়। এরপর হাসপাতালের ডাক্তার এসে দেখলে ততক্ষণে মৃত্যু বরণ করেন স্বপ্না রাণী। পরে ওইদিন রাতেই স্বপ্না রাণীর স্বামী জতি নম এসে হাসপাতালের ছাড়পত্র নিয়ে স্বপ্নার মৃতদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোলডুবা (শ্যামলী) এলাকায় বাড়িতে নিয়ে আসেন। শুক্রবার সকাল ১০টায় নিহত স্বপ্না রাণীর শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। মৃত্যুকালে স্বপ্না রাণী পাঁচ সন্তান রেখে গেছেন তারা হলেন, বাসনা রাণী (১৭), বিশ্বখাঁ রাণী (১৩), মিনতী রাণী (১১), মৌসমী রানী (৮), জবা রাণী (৪)। স্বপ্নার এমন মৃত্যু কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বামী ও সন্তানরা। নিহত স্বপ্নার মেয়ে বিশ্বখাঁ রাণী বলে, ‘মা-মা বলে অনেকবার ডেকেছি কিন্তু আমার মা আমার ডাকে সাঁড়া দেয়নি। চিকিৎসা দেয়ার জন্য বড় বড় ডাক্তারের হাতে পায়ে ধরেছি কিন্তু কেউ সাহায্য করেনি। নিহত স্বপ্নার স্বামী জতি নম বলেন, ৫টি সন্তান নিয়ে আমি অসহায় হয়ে গেলাম, এঘটনায় আমি বিচার চাই এবং প্রশাসনসহ সকলের কাছে আমি সহযোগীতা চাই। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় নিহত স্বপ্নার পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করছি, উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে ওই পরিবারকে সহযোগীতা করার যথা সম্ভব চেষ্টা করবো। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (০৮ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টায় আগুনের সূত্রপাত হয়। কারখানার ছয়তলা ভবনটিতে তখন প্রায় ৪০০-এর বেশি কর্মী কাজ করছিলেন। কারখানায় প্লাস্টিক, কাগজসহ মোড়কিকরণের প্রচুর সরঞ্জাম থাকায় আগুন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সব ফোরে। প্রচুর পরিমাণ দাহ্য পদার্থ থাকায় কয়েকটি ফোরের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিটের ২০ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। শুক্রবার (০৯ জুলাই) দুপুরে কারখানার ভেতর থেকে ৪৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই তিনজন নিহত হয়। সবমিলিয়ে, এ পর্যন্ত ৫২ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। কারখানায় আগুনের ঘটনায় প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনা তদন্তে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular