• 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
 

Items filtered by date: Tuesday, 20 July 2021

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গুঙ্গিয়াজুড়ি হাওড়ে সাবেক এমপির মৎস্য ফিশারীতে জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের গুঙ্গিয়াজুড়ি হাওড়ে সাবেক এমপি মুনিম চৌধুরী বাবুর মালিকানাধীন ফিশারীর উপর অবস্থিত একটি ঘর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। জাহাঙ্গীর মিয়া উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের কুর্শি গ্রামের মতিন মিয়ার ছেলে। সে সাবেক এমপি মুনিম চৌধুরী বাবুর মালিকানাধীন ফিশারীর পাহাড়াদার হিসেবে কর্মরত ছিল।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয়  পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এম এ মুনিম চৌধুরীর বাবুর মালিকানাধীন মৎস্য ফিশারী উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের গুঙ্গিয়াজুড়ি হাওড়ে অবস্থিত।দীর্ঘদিন ধরে ওই ফিশারীর পাহাড়াদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন জাহাঙ্গীর মিয়া। পাহাড়াদার জাহাঙ্গীর ফিশারীর পাড়ে একটি ঘরে বসবাস করতো। মঙ্গলবার বিকেলে বসত ঘরের তীরের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় জাহাঙ্গীরের দেহ দেখেন পান স্থানীয় লোকজন। পরে খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ ডালিম আহমেদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবুল খায়ের।এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ডালিম আহমেদ বলেন, বসত ঘরের তীরের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় জাহাঙ্গীরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আপাতত কিছু বলা যাচ্ছেনা আমরা কাজ করছি, ছুরতহাল রিপোর্ট ও ময়না তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার রাজাবাদ গ্রামের বড় বাড়ীর কৃতি সন্তান যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা তাজুল ইসলাম নিঠুর ব্যাক্তিগত উদ্দ্যেগে প্রতি বছরের ন্যায় এইবার ও ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এলকার হত-দরিদ্র শতাধিক পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও  ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে পৌর এলাকার রাজাবাদ বড় বাড়ী প্রাঙ্গণে  এই ঈদ সামগ্রী  ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ মিলু,তাজুল ইসলাম নিঠুর ভাই এমদাদুল রহমান মন্টু, উপজেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম অপু,নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর মিয়া,মোস্তফা কামাল সবুজ সাংবাদিক হাসান চৌধুরী  প্রমুখ।

নবীগঞ্জে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নামাজ আদায়ে ধর্ম মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা মূলক চিঠি নিয়ে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের মসজিদে,মসজিদে বিতরণ করছেন এসআই বিকাশ দেব নাথ। সোমবার (১৯ জুলাই) নবীগঞ্জ থানার বিট নং ১৪-১,২,৩ নং ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই বিকাশ দেব নাথ এ কার্যক্রম শুরু করেন। এসময় নবীগঞ্জ পৌর এলাকার এই ৩টি ওয়ার্ডে বিভিন্ন মসজিদের সম্মানিত ইমাম, সভাপতি পদে দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তিদের হাতে ধর্ম মন্ত্রনালয় কর্তৃক স্বাস্থ্যবিধি নির্দেশনা মূলক চিঠি তাদের হাতে তুলে দেন। পরবর্তীতে বিট এলাকায় চুরি,ডাকাতিসহ অন্যান্য অপরাধ এবং ঈদের নামাজ বা অন্য কোন ইস্যুকে কেন্দ্র করে যেন কোন সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে তার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ বিভিন্ন পাড়া ও মহল্লার বিশিষ্টজনদের সাথে আলোচনা করেন এসআই বিকাশ দেব নাথ। এছাড়াও পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায় করার জন্য মুয়াসল্লিদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। ঈদের নামাজে ধর্ম মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা মূলক চিঠি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো, মসজিদে ঈদের নামাজ আয়োজনের ক্ষেত্রে কার্পেট বিচানো যাবে না। নামাজের পুর্বে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবানুনাশকদ্বারা জীবানু মুক্ত করতে হবে। মুসল্লিগণ প্রত্যেক নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। প্রত্যেক নিজ বাসা থেকে অজু করে মসজিদ বা ঈদগাহে আসতে হবে এবং অজু করার সময় কমপক্ষে ১০ সেকেন্ড সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদ ঈদগাহে অজুর স্থান সাবান পানি ও হেন্ডসেনিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদ ঈদগাহে মাঠে প্রবেশদ্বারে হেন্ড সেনিটাইজার হাত ধুয়ার ব্যবস্থাসহ সাবানও পানি রাখতে হবে। ঈদের নামাজের জামাতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পড়ে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ওটুপি ব্যবহার করা যাবে না। ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর,অন্তর কাতার করতে হবে। শিশু, বয়োবৃদ্ধ,অসুস্থ্য ব্যাক্তি এবং অসুস্থ্যদের সেবায় নিয়জিত ব্যাক্তিবর্গ নামাজের জামাতে অংশ্র গ্রহণে নিরুসাহিত করা হলো। সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরন করতে হবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিত করে ঈদের জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করতে হবে। করোনা মহামারি এবং বৈশ্বিক মহাবিপদ হতে রক্ষা পেতে বেশি বেশি তওবা,আস্তাগফিরুল্লাহ ও কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে এবং আমাদের কৃত অন্যায় অপরাধ এর জন্য ঈদের নামাজ শেষে মহান রাসূল আলামীনের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। খতিব ,ইমাম,মসজিদ ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি নির্দেশনা গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

নবীগঞ্জের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আব্দুস শহীদ ওরপে সাহিদ মিয়া (৬৫) আর নেই ইন্নালিল্লাহি --- রাজিউন। তিনি পৌর শহরের আনমনু গ্রামের মৃত আরমান উল্লার ছেলে এবং ডাঃ জোশেফ ও লন্ডন প্রবাসী পারভেজ এর পিতা। সোমবার রাত ১০ টার দিকে ঢাকাস্থ সিকেডি হসপিটালে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মরহুমের জানাজার নামাজ মঙ্গলবার বেলা ২.৩০ ঘটিকায় ওসমানী রোডস্থ দারুল উলুম মাদ্রাসা সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে অনুষ্টিত হইবে। মরহুম আঃ শহীদ সাহিদ মিয়া হবিগঞ্জ জেলাসহ বৃহত্তর সিলেটে সুপরিচিত ও দানশীল ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে খ্যাতি রয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে ভবন নির্মাণ সহ অসংখ্য অনুদান প্রদান করেছে। সাহিদ মিয়ার মৃত্যুর খবরে উপজেলার সবর্ত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। গভীর রাত পর্যন্ত মরহুমের বাসায় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক, সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক মানুষের ভীড় জমে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠে। 

রাত পোহালেই ঈদুল আজহা। আর মাত্র একদিন বাকি। এ সময় একদিকে যেমন জমে ওঠে পশুর হাট, তেমনিই ঝনঝন করে ওঠে কামারবাড়ি। পুরোদমে চলে ছুরি, চাকু ও চাপাতি বানানোর কাজ। কিন্তু এ বছর ক্রেতাশূন্য ছুরি-চাকুর দোকান, কাজের চাপ নেই কামারদের দোকানেও। নবীগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন সড়কে গড়ে উঠা দোকান গুলোতে বিক্রি হয় ছুরি, চাপাতি, কুড়াল, দা ও বঁটি। বছরের পুরোটা সময় সেখানে তেমন আলোড়ন না থাকলেও সাধারণত কোরবানির ঈদের আগে ক্রেতাদের চাপ দেখা যায়। দোকানি সুকুমার দেব বলেন, ‘করোনার আগে কোরবানির ঈদের সময় প্রতিদিন লাখ টাকার বিক্রি করেছি। এখন সারা দিনে ৫/১০ হাজার টাকার বিক্রিও নেই। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এবার কোরবানি কম হবে।’ এ বাজারের একাধিক বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোরবানির ঈদের এই মৌসুমে প্রতি দোকানে অন্তত ৫০/৬০ ক্রেতা আসতেন। সোমবার রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো দোকানে ৬ জন, কোনো দোকানে ১০ জন, কোনো দোকানে ১৪ জন ক্রেতা এসেছেন। নবীগঞ্জ উত্তর বাজারে রয়েছে কামারপট্টি। সেখানে পৌরসভার অনুমোদিত দোকান আছে প্রায় ১০টি। সারি বদ্ধভাবে রয়েছে কর্মকার মার্কেট। এছাড়া শহরের ওসমানী রোডে, মধ্য বাজারে রয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি কর্মকার দোকান। এই দোকানগুলোতে তৈরি হয় কোরবানির পশু কাটাকাটির সরঞ্জাম। সেখানে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানেই অলস সময় কাটাচ্ছেন কর্মকাররা। কারও হাতে নতুন কাজ নেই। কারণ, আগের পণ্যই বিক্রি হয়নি। মাঝে টুকটাক দু-একজন কাজ করছেন, তবে নতুন নয়, পুরোনো দা-বঁটি মেরামত করছেন তাঁরা। আগের মতো টুং টাং শব্দে মুখড়িত হয়না এই কর্মকার দোকান গুলোতে। ব্যবসায়ী সুরেন্দ্র দেব বলেন, ‘কোরবানির সময় সাধারণত যা বিক্রি হতো, তার মাত্র ২০ শতাংশ বিক্রি করতে পারছি। অথচ ঈদের আগের সোমবার আমরা ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও পেতাম না।’ গত রোজার ঈদের পর থেকেই কোরবানির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন কর্মকার ব্যবসায়ীরা। কোরবানি উপলক্ষে তারা এখন পর্যন্ত ১০/১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু ‘চালানের টাকা উঠবে কি না, তা নিয়েই চিন্তায় আছেন তারা, বললেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে মহামারি করোনায় লকডাউনে টিকমত ব্যবসা করতে পারেন নি তারা। তাদের প্রত্যেকের দোকানে কাজ করে ২ জন মূল কারিগর আর বাকিরা সহযোগী। নবীগঞ্জ বাজারের এই কর্মকার মার্কেটে প্রত্যেক কারিগর ও সহযোগিদের দৈনিক মজুরি ও খাওয়ার খরচও বহন করাই কষ্টসাধ্য ব্যবসায়ীদের।
কামারপট্টির আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ফরমাশ কম আসায় ব্যবসার তি বাড়ছে। দোকান বন্ধ রাখলে অন্তত কর্মচারীদের খরচ বহন করতে হয় না। নবীগঞ্জ বাজারের কর্মকার মার্কেটে অন্তত ৪০/৫০ কর্মকার কর্মরত। এপ্রিল মাসের কঠোর বিধিনিষেধের সময় থেকে ব্যবসায় চরম মান্দা। এখন তাদের পেটের ভাত জোগাড় করাই কঠিন। ‘গত বছর থেকে আয়-রোজগার বলতে গেলে নেই। ভেবেছিলাম, এ বছর কোরবানির পর অবস্থা কিছুটা ফিরবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, এখন পরিবার পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে জীবন যাপন করতে হবে। ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ উক্ত কামার শিল্পরা পাচ্ছেনা সরকারের কোন প্রনোদনা।

  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular