সিলেট সংবাদ

সিলেট সংবাদ (30)

গতকাল চার দফা ভূমিকম্পের পর আজ আবারো ভূমিকম্পে কাঁপলো সিলেট। রবিবার (৩০ মে) ভোর ৪টা ৩৫ মিনিট ৭ সেকেন্ডে দুই দশমিক ৮ মাত্রার এ ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। এতে সিলেট জুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে ঘুমিয়ে থাকায় ভূমিকম্পের বিষয়টি অনেকে আঁচ করতে পারেননি।

ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, রিখটার স্কেলে ভোরে হওয়া ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ২ দশমিক ৮। এটিরও উৎপত্তি স্থল সিলেটের জৈন্তাপুর বর্ডার এলাকায়।

এর আগে শনিবার (২৯ মে) বেলা ২টায় সর্বশেষ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে প্রবল ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে সিলেট। ওই দিন সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট, ১০টা ৫০ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড ও ১১টা ২৯ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডেও এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়।  
 
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য মতে, রিখটার স্কেলে শনিবার (২৯ মে) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে হওয়া ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক শূন্য। দ্বিতীয় ঝাঁকুনি ১০টা ৫০ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডে রিখটার স্কেলের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। সকাল ১১টা ২৯ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডে ২ দশমিক ৮ মাত্রা এবং বেলা ২টায় ৪ মাত্রায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। চারটিরই উৎপত্তিস্থল সিলেটের আশপাশে। ঢাকা থেকে উত্তর পূর্বে এর অবস্থান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ছোট ভূমিকম্পের পর বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। আর বড় ধরণের ভূমিকম্প হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সিলেট। এ জন্য সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তারা। এ কারণে ভবনের বাসিন্দাদের অনেকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন এবং রাত জেগে ইবাদত বন্দেগিও করেছেন।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় দুইবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৭ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার রশিদপুরের অদূরে ব্রিজের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সালমান খান (২৮), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের নুরুল আমিন (৫০), ঢাকা ওয়ারি এলাকার সাগর (১৯), সিলেটের ওসমানীনগরের মঞ্জুর আহমদ মঞ্জু (৩৫), একই উপজেলার জাহাঙ্গির হোসেন (৩০), ডা. ইমরান খান রুমেল (৪৮) ও সিলেটের আখালিয়া নতুন বাজার এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে শাহ কামাল (৪৫)।  এ ঘটনায় আরও ৩০ জন আহত হন। এর মধ্যে ১১ জন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এর মধ্য থেকে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিষয়টিদৈনিক নবীগঞ্জের ডাক -কে ফোনে জানিয়েছে ওসমানী হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস.আই মো. জয়নাল।  দুর্ঘটনা কবলিত বাস দুটি হচ্ছে- ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লন্ডন এক্সপ্রেস (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৩১৭৬) ও সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া এনা পরিবহন (ঢাকা মেট্রো ব ১৪-৭৩১১)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লন্ডন এক্সপ্রেস দ্রুত গতিতে ভুল সাইটে চলে আসার কারণে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। সিলেটগামী গাড়িটি ব্রিজ পার হয়েই বিপরীত দিক থেকে আসা এনা গাড়ির উপর উঠে যায়। এসময় প্রচণ্ড গতিতে এনা বাসের সঙ্গে লন্ডন এক্সপ্রেসের সংঘর্ষ ঘটে। লন্ডন এক্সপ্রেসের বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী জানান, ঢাকা থেকে আসার পথে বার বার গাড়ির চালক অন্য গাড়িকে বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করছিলেন। কয়েকবার আমরা সতর্ক করার পরও চালক আমাদের কথা শুনেননি। যে কারণে এমন মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিলেটের উপ-পরিচালক কোবাদ আলী সরকার বলেন, লন্ডন এক্সপ্রেস গাড়িটি রাস্তার ভুল দিকে এসে এনা বাসকে ধাক্কা দেয়। প্রাথমিকভাবে লন্ডন এক্সপ্রেসের ভুল বলে মনে হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার আসল কারণ পরবর্তীতে তদন্তে জানা যাবে। এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান সিলেটভিউ-কে জানান, সকালে কুয়াশা তেমন একটা ছিলো না। গাড়ির অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে লন্ডন এক্সপ্রেস দ্রুত গতিতে ওভারটেক করে এনা গাড়ির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। অথবা লন্ডন এক্সপ্রেসের চালক ঘুমিয়েও থাকতে পারেন। বিষয়টি পরে তদন্তে বিস্তারিত জানা যাবে। এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। রশিদপুরের দুদিকে প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে সব ধরণের যানবাহন আটকা পড়ে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান শেষে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে  চলাচল স্বাভাবিক হয়।  

আগামী ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠেয় পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে উপস্থিত মনোনীত প্রার্থীদের সামনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ নাম ঘোষণা করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।এর মধ্যে সিলেট বিভাগের ৭টি পৌরসভায়ও  বিএনপি তাদের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।তারা হলেন- হবিগঞ্জের মাধবপুর হাবিবুর রহমান, নবীগঞ্জ ছাবির আহমেদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ সদর মোর্শেদ আলম, ছাতক রাশিদা বেগম, জগন্নাথপুর মো. হারুনুজ্জামান, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ মোহাম্মাদ আবুল হোসেন ও কুলাউড়া কালাম উদ্দিন আহমেদ।

অবশেষে রায়হান হত্যার ২৮ দিন পর মূল অভিযুক্ত সদ্য বহিস্কৃত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।রোববার রাতে ভারতের দনা বস্তির খাসিয়ারা ভারতের অভ্যন্তরীণ এলাকা থেকে এসআই আকবরকে আটক করে। পরে সোমবার দুপুর ১টার দিকে কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী দনা এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে খাসিয়ারা তাকে তুলে দেয়।দ্রুত এসআই আকবর আটকের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে সিলেটের জেলা পুলিশ ও কানাইঘাট থানা পুলিশ সীমান্ত এলাকায় ছুটে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে আকবরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসছেন বলে জানিয়েছেন থানার এসআই স্বপন চন্দ্র সরকার।গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে গুরুতর আহত হন রায়হান। তাকে ওইদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহীসহ পুলিশ সদসরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান।ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নগরের কাস্টঘরে গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান।এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সিলেট মহানগর পুলিশের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করেন।মামলাটি পুলিশ সদরদফতরের নির্দেশে পিবিআইয়ের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরে মরদেহ কবর থেকে তুলে পুনঃময়নাতদন্ত করা হয়। রায়হানের দেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন মেলে ফরেনসিক রিপোর্টে।এরইমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এসআই আকবর পলাতক থাকলেও পুলিশ হেফাজতে থাকা কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে ২০ অক্টোবর ও হারুনুর রশিদকে ২৪ অক্টোবর এবং ২৮ অক্টোবর এএসআই আশেকে এলাহী গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয়া হয়। এছাড়া ২২ অক্টোবর এসএমপি কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে বদলি করা।

নতুন করে গুঞ্জন উঠেছে রায়হান হত্যাকারী ঘাতক আকবর মেঘালয়ে পালিয়েছে। এটাও আকবর কে নিরাপত্তায় রাখায় গোপন চাল। গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এ মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি আকবর এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালেই রয়েছেন। কিন্তু যাবেন কোথায় ধরা আকবরকে পড়তেই হবে। আর তার জন্য গোয়েন্দা টিম হন্য হয়ে খুঁজছে এসআই আকবর কে।শনিবার রাতে গণমাধ্যম কর্মীদের এমন তথ্য জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা। তবে, বন্দরবাজার ফাঁড়ির বরখাস্ত হওয়া ইনচার্জ এসআই আকবর পুলিশি নজরদারিতে রয়েছেন কী না-তা জানা যায়নি। পুলিশি নির্যাতনে ১১ অক্টোবর সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় মারা যান নগরীর আখালিয়ার রায়হান আহমদ।এ ঘটনার সাতদিনে পেরিয়ে গেলেও এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। রায়হান হত্যার ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (বরখাস্ত) এসআই আকবর হোসেন ভূইয়ার পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক হিসেবে দেখছেন সচেতনমহল। তার পালিয়ে যাওয়ার পেছনে কারা সহযোগিতা করেছে সেটাও আলোচনা আসছে। ঘটনার পর থেকে বরখাস্ত ও প্রত্যাহার হওয়া দুই এএসআই এবং চার কনস্টেবল পুলিশের পাহারায় সিলেট পুলিশ লাইন্সে রয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য ইতোমধ্যে কাষ্টঘর এলাকার সুইপার কলোনির সুলাই লালসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। হোতা এসআই আকবর হোসেনসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে এখন উত্তাল সিলেট। বিক্ষোভ প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। সবার কাছে এখন প্রশ্ন আকবর হোসেন ভূইয়া কোথায়? সিলেট মহানগর পুলিশের লাপাত্তা এই সদস্যের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও।এরই মধ্যে শনিবার রাতে খবর রটে ‘আকবর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালেই রয়েছেন’

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ছাত্রলীগকর্মী তারেকুল ইসলামকে আটক করেছে র‍্যাব-৯। তিনি মামলার দুই নম্বর আসামি। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের গরমা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‍্যাবের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে তিনি তাল লম্বা দাড়ি এবং চুল কেটে আত্মগোপনে চলে যান। কিন্ত  চুল-দাড়ি কেটেও রক্ষা পেলেন না তিনি।

র‍্যাব-৯ এর কর্মকর্তা এএসপি কামরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিকে সিলেট নিয়ে আসা হচ্ছে।

গ্রেপ্তার তারেক সুনামগঞ্জ পৌরশহরের উমেদনগর নিসর্গ ৫৭ নম্বর বাসার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা রঞ্জিত সরকারের অনুসারী ও ছাত্রলীগকর্মী। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আইনউদ্দিন ও রাজন নামে আরো দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে আটকে রেখে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব ও সিলেট রেঞ্জ পুলিশ।

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় কে বা কারা দায়ী তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এজন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন আদালত। সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক, সিলেট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা জজ (সাধারণ) সমন্বয়ে এ কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটিকে হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। কমিটিকে ঘটনার শিকার গৃহবধূ, মামলার বাদী, এমসি কলেজের অধ্যক্ষ, হোস্টেল সুপার, এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী (যদি খুঁজে পাওয়া যায়) ও এই কমিটি যাদের প্রয়োজন মনে করবে, তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছেন, সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে এ ধরনের ঘটনায় সর্বোচ্চ আদালত নির্লিপ্ত থাকতে পারে না।

একইসঙ্গে তদন্তকাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরঞ্জাম সরবরাহ করতে সিলেটের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কমিটির সদস্যদের নিরাপত্তা দিতে সিলেট পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করেছেন আদালত। রুলে নিরাপরাধ গৃহবধূর নিরাপত্তা দিতে অবহেলা ও ব্যর্থতা এবং কলেজ ক্যাম্পাসে অছাত্রদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এমসি কলেজের অধ্যক্ষ ও হল সুপারের নীরবতার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। শিক্ষা, আইন ও স্বরাষ্ট্র সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য, এমসি কলেজের অধ্যক্ষ, সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, হল সুপারসহ ৯ জনকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া আদালত আগামী ১৮ অক্টোবর পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে এনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আবেদন জানানোর পর আদালত এ আদেশ দেন। আবেদনের ওপর শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ চৌধুরী।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে এমসি কলেজে বেড়াতে যেয়ে গণধর্ষণের শিকার হন গৃহবধূ। স্বামীকে বেঁধে মারধর করে ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এরপর ওইদিন রাতেই শাহপরাণ থানায় মামলা করেন নির্যাতিতার স্বামী। মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখ এবং আরো অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলো- এম. সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক আহমদ, অর্জুন লঙ্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান। তারা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আসামিদের মধ্যে তারেক ও রবিউল বহিরাগত, বাকিরা এমসি কলেজের ছাত্র।

ওই ঘটনার পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজের গণিত বিভাগের প্রধান আনোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক, হোস্টেল সুপার জামাল উদ্দিন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জীবন কৃষ্ণ ভট্টাচার্যকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। এরই মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ধর্ষণের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. শাহেদুল খবির চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি এম. সাইফুর রহমানের পর এবার ৪ নম্বর আসামি অর্জুন লস্করকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।আজ রবিবার সকালে অর্জুনকে হবিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে প্রধান আসামি এম. সাইফুর রহমানকে সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।ধর্ষণের ঘটনায় সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো তিনজনকে আসামি করে গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর শাহপরান থানায় মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগী তরুণীর স্বামী।অভিযুক্তরা হলেন এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা এম সাইফুর রহমান, ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক আহমদ, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাছুম। অভিযুক্ত তারেক ও রবিউল বহিরাগত হলেও বাকি চারজন এমসি কলেজের শিক্ষার্থী। আসামিরা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।ঘটনার পরই অভিযুক্তদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযানে নামে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে পুলিশ অভিযুক্ত সাইফুরের কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, চারটি রামদা, একটি ছুরি ও দুটি লোহার পাইপও উদ্ধার করে।জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বামী-স্ত্রী এমসি কলেজে বেড়াতে যান। এ সময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ৫-৬ জন ছেলে জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায় দম্পতিকে। সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে তাঁর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে তারা। খবর পেয়ে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করে শাহপরাণ থানা পুলিশ।

সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে মারধর করে আটকে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।আজ শনিবার সকালে শাহপরান (র.) থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) মিল্টন সরকার বাদি হয়ে সাইফুর রহমান নামের ছাত্রলীগ ক্যাডারকে আসামি করে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় একটি মামলা  দায়ের করেন।এর আগে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন ওই নারীর স্বামী। শনিবার ভোর রাতে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২/৩ জনকে অভিযুক্ত করে নগরের শাহপরান থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। ধর্ষণে অভিযুক্তরা হলেন- এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা এম সাইফুর রহমান, ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক আহমদ, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাছুম। অভিযুক্ত তারেক ও রবিউল বহিরাগত হলেও বাকি চারজন এমসি কলেজের শিক্ষার্থী।এ ঘটনায় সবাইকে ছাত্রাবাস ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। করোনাভাইরাসের কারণে কলেজ ও ছাত্রাবাস বন্ধ থাকলেও ছাত্রলীগ ক্যাডার সাইফুর রহমানসহ কয়েকজন ছাত্রাবাসে বসবাস করতেন।বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, শনিবার ভোরে অভিযানে ছাত্রাবাসে সাইফুর রহমানের কক্ষ থেকেই একটি পাইপগান, চারটি রামদা ও একটি চাকু, দুটি লোহার পাইপ, প্লাসসহ বিভিন্ন জিনিস জব্দ করা হয়েছে।  গতকাল শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটক রেখে ওই গৃহবধূকে ছাত্রলীগের ৬ জন নেতাকর্মী গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই দম্পতিকে ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ধর্ষণের শিকার তরুণীকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়।  ওই নবদম্পতি শুক্রবার বিকেলে প্রাইভেটকারে এমসি কলেজে বেড়াতে যান। বিকেলে এমসি কলেজের ছাত্রলীগের ছয়জন নেতাকর্মী স্বামী-স্ত্রীকে ধরে ছাত্রাবাসে নিয়ে প্রথমে মারধর করে। পরে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে।

সিলেট বিভাগের চার জেলায় গতকাল রবিবার (১৯ জুলাই) এক দিনে ছয় চিকিৎসকসহ ১৪৯ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে সিলেট জেলায় ৭০ জন, সুনামগঞ্জ জেলায় ৪৫ জন, হবিগঞ্জ জেলায় ৮ জন এবং মৌলভীবাজার জেলায় ২৬ জন রয়েছেন। 

রবিবার সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ল্যাব এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তাদের করোনা শনাক্ত হয়। ওসমানী হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালের ল্যাবে রবিবার ২৮২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ছয়জন চিকিৎসকসহ ৮৯ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে সিলেট জেলার ৫০ জন, মৌলভীবাজার জেলার ২৬ জন, হবিগঞ্জ জেলার ৮ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলার ৫ জন রয়েছেন। এছাড়া রবিবার শাবির ল্যাবে সিলেট জেলার ২০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ছয় জন চিকিৎসক ছাড়াও ব্যাংকার, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য রয়েছেন।

সিলেট জেলার শনাক্তদের মধ্যে ৪৫ জন সিটি করপোরেশন ও সিলেট সদর উপজেলার, জকিগঞ্জের ২ জন এবং বিশ্বনাথ, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একজন করে তিন জন রয়েছেন। 

এদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে রবিবার ৬০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে  ৪০ জন সুনামগঞ্জ জেলার এবং ২০ জন সিলেট জেলার বাসিন্দা। বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাম্মাদুল হক শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শাবির ল্যাবে রবিবার ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৬০ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। 

গতকাল রবিবার রাতে শনাক্ত হওয়া ১৪৯ জন নিয়ে সিলেট বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৬ হাজার ৭৫১ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩ হাজার ৫০০ জন, সুনামগঞ্জে ১ হাজার ৩২৩ জন, হবিগঞ্জে ১ হাজার ৬৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ৮৬৫ জন। 

রবিবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের চার জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১১৮ জন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৮ জন মারা গেছেন সিলেট জেলায়। এছাড়া সুনামগঞ্জে ১২ জন, হবিগঞ্জে ৮ জন এবং মৌলভীবাজারে ১০ জন মারা গেছেন। সকাল পর্যন্ত বিভাগে সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৭৩২ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ৮৯১ জন, সুনামগঞ্জের ৯৩৯ জন, হবিগঞ্জের ৪৭৪ জন ও মৌলভীবাজার জেলার ৪২৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে সুস্থ ঘোষণা করা হয়েছে ১৭৬ জনকে।

একই সময়ে করোনা আক্রান্ত ২০৯ জন রোগী বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে ৯১ জন সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৭ জন, হবিগঞ্জের হাসপাতালে ৫৬ জন ও মৌলভীবাজারে ২৫ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

Page 1 of 3
  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular
X

দুঃখিত !

ওয়েব সাইটে এই অপশন নাই।